বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮

ট্যুরিস্ট পুলিশে আস্থা বাড়ছে

প্রকাশিতঃ সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ


রিজভী রাহাত, বান্দরবান : বান্দরবান বাংলাদেশের ভূ-স্বর্গ। পাহাড়ের স্নেহ ছায়ায় গড়ে উঠা এক স্বপ্নীল জনপদ। সম্প্রীতি এ জেলার অহংকার। মহান স্রষ্টার উজাড় করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অফুরন্ত ভান্ডার বান্দরবান। নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং এ জেলার জাতিগোষ্ঠিদের অকৃত্রিম জীবনাচরণ যে কারও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বান্দরবানের এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ।

প্রাকৃতিক অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে এ জেলায়। বিশেষ করে এক দশক ধরে পর্যটনশিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে বান্দরবানে।

বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ভ্রমণ। আর যারা ভ্রমণ করেন তাদের বলা হয় ট্যুরিস্ট বা পর্যটক। প্রতিবছর কমপক্ষে ১৫ লাখ পর্যটক বেড়াতে আসেন এ জেলায়।

এই পর্যটকদের নানা ধরনের সাহায্যের জন্য রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কোথাও কোনো হয়রানি বা বিপত্তিতে পড়লে অথবা কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হলে ফার্স্ট রেসপন্ডার তথা প্রথম সাড়াদানকারী পক্ষ হতে পারে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

এসব পর্যটকের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি বান্দরবানে বাড়ানো হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম। এতে আস্থা বেড়েছে পর্যটকদের।

পুলিশ সুপার (এসপি) পদের একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের সদরে কাজ করছেন দুইজন পরিদর্শক, এসআই চারজন, এএসআই আটজন, নায়েক তিনজন এবং কনস্টেবল আটজন রয়েছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বান্দরবানের পর্যটন এলাকা থানচিতে একটি সাব জোন কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ইনচার্জ হিসেবে আছেন একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। এ ছাড়া একজন এএসআই, একজন নায়েক এবং একজন কনস্টেবল রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলাতেও সাব জোন চালু করা হবে।

এ ছাড়া বান্দরবানে ট্যুরিস্ট পুলিশের জোনাল কার্যালয় রয়েছে। জেলা সদরের মেঘলা পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের জোনাল ও সদর জোন কার্যালয় রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপারের কার্যালয়কে জোনাল কার্যালয় ও পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন ইনচার্জের অধীনে একটি জোন কার্যালয় থাকে। আর একজন সহকারী পরিদর্শকের (এসআই) অধীনে একটি সাব জোন থাকে। বান্দরবানে জোনাল কার্যালয়ের আওতায় একটি জোন ও একটি সাব জোন রয়েছে।

পর্যটকদের বিভিন্ন ধরনের সেবা, নিরাপত্তা এবং হয়রানি ও বিপত্তি রোধের সংকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

ঢাকায় ফার্মগেটের বাসিন্দা পর্যটক সাইফুর রহমান (৪৫) বলেন, ‘আমি অনেকবার এসেছি, কিন্তু এবার অন্যরকম সেবা পেয়েছি। পর্যটকদের রেজিস্ট্রেশন করার, পথ প্রদর্শকদের সুন্দর আচরণ, নৌকা মাঝিদের ব্যবহার, খাওয়া দাওয়া পরিবেশন, স্বাস্থ্যবিধি মানা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ ট্যুরিস্ট পুলিশের অনেক পরিবর্তন দেখা গেছে। ভ্রমণ করতে হলে সবাইকে প্রথমে থানচি বেচে নেওয়ার জন্য বলব।’

পথ প্রদর্শক জওয়াই প্রু মারমা বলেন, ‘পথ প্রদর্শক হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ আসার পর থেকে তাঁদের সচেতনতামূলক প্রচারে আমাদের অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে চলতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

ময়মনসিংহ থেকে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্র নীলাচলে বেড়াতে এসেছেন নুরে আলম। তিনি বলেন, ‘পর্যটনকেন্দ্র গুলোতে সম্প্রতি ট্যুরিস্ট পুলিশ দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা নিরাপদবোধ করছেন। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে যদি অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের তথ্য থাকে, তাহলে আরও ভালো হবে।’

বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের জোন কার্যালয়ের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আমিনুল হক জানান, জেলা সদরের মেঘলায় তাঁদের কার্যালয় রয়েছে। তাঁরা জেলায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা সদা প্রস্তুত। পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটকেরা যাতে পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য জানতে পারেন, সে ব্যাপারেও সহযোগিতা করা হয়।’

ট্যুরিস্ট পুলিশের বান্দরবান জেলা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, ‘পর্যটকদের সেবায় ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
জেলায় ২২টির মতো পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান রয়েছে, এগুলোকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।’