রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

১৩ বছরে মানুষ আরও দরিদ্র হয়েছে : মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ ৮ জানুয়ারী ২০২২ | ৪:৩২ অপরাহ্ন


ঢাকা : আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ১৩ বছরে এদেশের সাধারণ মানুষ, যেটা মান্না সাহেব বলেছেন- দরিদ্র আরো দরিদ্র হয়েছে, চার কোটি মানুষ বেকার হয়ে গেছে এবং ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। আর বড়লোক আরো বড়লোক হয়েছেন।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক মানব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

‘প্রতিহিংসার বিচারে বন্দি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আস্থার প্রতীক, গণতন্ত্রের মা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে’ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জাতির সামনে বক্তব্য রেখেছেন। সেই বক্তব্যে বলেছেন, তিনি তার শাসন আমলে এদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে গেছেন। আর ২০৪১ সাল পর্যন্ত যদি তাকে আপনারা থাকতে দেন তাহলে দেশকে তিনি একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করবেন।

‘এই ১৩ বছরে এদেশের সাধারণ মানুষ, যেটা মান্না সাহেব বলেছেন- দরিদ্র আরো দরিদ্র হয়েছে। চার কোটি মানুষ বেকার হয়ে গেছে। ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে এবং বড় লোক বড় লোক হয়েছেন। অর্থ্যাৎ আওয়ামী লীগের লোকেরা, যারা আজকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার সমস্ত সুযোগ ভোগ করছেন- তারা আজকে বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করে দিয়ে তাদের সম্পদকে রক্ষা করতে চাচ্ছেন,’ বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আবারও বিভিন্ন রকম কলা-কৌশল শুরু করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি সংলাপ ডেকেছেন। কিসের সংলাপ? এই সংলাপ ইতোমধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করেছে। পরিষ্কার করে বলেছে, এই সংলাপে কোনো লাভ হবে না। অর্থহীন সংলাপ। কারণ নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নাই, যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ না হয়।

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের খুব স্পষ্ট কথা- সবার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। আর পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে তারপরে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে জনগণের ভোটের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিন। এটাই হচ্ছে একমাত্র পথ। এর বাইরে আর কোনো পথ নেই।’

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আসেন, আমরা সবাই ওই লক্ষ্যে- অর্থ্যাৎ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি- এই দুটিকে এক সাথে করে আজকে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আমি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই যে, আসুন, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং আমাদের সমস্ত অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আর সত্যিকার অর্থে জনগণের একটা সরকার, জনগণের একটা বাংলাদেশ নির্মাণ করি এবং কল্যাণময় একটা রাষ্ট্র আমরা নির্মাণ করি।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি আজকে জনগণের দাবি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি গণদাবি। এই দাবি অবশ্যই সরকারকে মেনে নিতে হবে। আর সরকার যদি এই দাবি মেনে না নেয় তাহলে সব সময়ই গণদাবি অস্বীকার করার জন্য অতীতের সরকারগুলোর যে অবস্থা হয়েছিল, তাদেরকেও একই পরিণাম বহন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য গত দেড় থেকে দুই মাস ধরে অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে আমরা আন্দোলন করছি। সারাদেশে আমাদের অসংখ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যেক সমাবেশ থেকে, লাখো মানুষের কণ্ঠ থেকে একটি আওয়াজই এসেছে- দেশনেত্রীর মুক্তি চাই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি হচ্ছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক। কিন্তু এই সরকার কিছুতেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে চায় না। কেন চায় না। কারণ তারা জানেন, যদি বেগম জিয়া মুক্ত হন তাহলে জনগণের যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, সেই তরঙ্গের সামনে তারা টিকে থাকতে পারবে না। সেই কারণেই তারা খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে চান না।

তিনি বলেন, ‘আজকে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা। বিএনপির পাঁচ শতাধিক মানুষ গুম হয়ে গেছে। আজকে আমাদের হাজারো নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আজকে সমস্ত দেশের মানুষের আওয়ামী লীগের কাছে জিম্মি।’

মানব সমাবেশকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল ৯টা থেকেই ব্যানার, ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এসময় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলেন তারা।

সমাবেশ ঘিরে প্রেসক্লাবের আশপাশে কঠোর অবস্থানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে এবং নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব নিপুন রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মশিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উত্তর সদস্য সচিব আমিনুল হক, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও মানব সমাবেশে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের বক্তব্য দেন।