বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮

বিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, নিহত ২

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২২, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ


কক্সবাজার প্রতিনিধি : দুই বড় বোন ও সন্তানকে নিয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিতে বেরিয়েছিলেন আইনজীবীর সহকারি শফিকুর রহমান। কিন্তু কমিউনিটি সেন্টারে পৌঁছানোর আগেই ঘাতক বাস তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে প্রাণ হারান শফিকুরের এক বোনসহ চালক। মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন শফিক ও তার অপর বোন এবং শিশুটি।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁওয়ের চান্দের ঘোনা সাতঘরিয়াপাড়া এলাকায় শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কয়েক ঘন্টা উভয়পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।

রাস্তা পারাপাররত এক ৃদষ্টি প্রতিবন্ধীকে বাঁচাতে উল্টো পথে গিয়ে যাত্রীবাহী পূর্বাণী বাস চাপা দেয় সিএনজি অটোরিকশাকে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এছাড়া একসাথে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।

এ ঘটনায় বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানিয়েছেন ঈদগাঁও থানার ওসি মো. আবদুল হালিম।

নিহতরা হলেন, সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী চকরিয়ার খুটাখালীর ৬ নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়ার মৃত আমির হামজার মেয়ে ছেনোয়ারা বেগম (৩৮) ও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাককুম পাড়ার জাফর আলমের ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মুহাম্মদ জিসান (২২)।

সিএনজি অটোরিকশার অপর যাত্রি আহত আইনজীবী সহকারি শফিকুর রহমান (৩০) ও তসলিমা আকতারকে (৩২) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা নিহত ছেনোয়ারার ছোট ভাই-বোন। তাদের অবস্থাও আশংকাজনক বলে উল্লেখ করেছেন ঈদগাঁও থানার ওসি আবদুল হালিম। শফিকের বাচ্চাটির নাম জানাতে পারেননি ওসি।

প্রত্যক্ষদর্শী মিছবাহ উদ্দিন, সুরুত আলম ও জাহাঙ্গীর সম্রাট জানান, বিকাল ৪টার দিকে সাতঘরিয়াপাড়া এলাকায় এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চট্টগ্রামমুখী পূর্বাণী পরিবহনের একটি বাস রং সাইডে গিয়ে কক্সবাজার অভিমুখী সিএনজিকে চাপা দেয়। দুটি গাড়িই দ্রুত গতি থাকায় সংঘর্ষে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে বাসের ভেতর ঢুকে গিয়ে দুটি গাড়ি এস সাথে খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যান চালক ও এক নারী।

রামু হাইওয়ে থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই মুজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। উদ্ধার তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস। পরে অন্য গাড়ির সাহায্যে বাস ও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজিটি উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়।