বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আধার বান্দরবানের ‘তমা তুঙ্গী’

প্রকাশিতঃ শনিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ৩:১৭ অপরাহ্ণ


রিজভী রাহাত, বান্দরবান : তমা তুঙ্গী- বান্দরবানের নতুন একটি পর্যটনকেন্দ্র। আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর এক মাস পার না হতেই তমা তুঙ্গী এখন পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে প্রাণচঞ্চলতায় ভরে উঠেছে।

দুটি ভাগে বিভক্ত করে গড়ে তোলা এ পর্যটন কেন্দ্রের চারপাশেই সবুজ পাহাড়ের সমারোহ। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো তমা তুঙ্গী পাহাড় থেকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তজিংডং, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কেওক্রাডং পর্বতশৃঙ্গ আর সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় পর্যটন সড়ক ডিম পাহাড় দেখার সুযোগ আছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, চারপাশেই সবুজ পাহাড়ের সমারোহ। ট্যুরিস্ট ভিউ পয়েন্ট–১ ও ট্যুরিস্ট ভিউ পয়েন্ট-২ নামে পাশাপাশি দুটি স্থান রয়েছে তমা তুঙ্গীতে। এর মধ্যে ট্যুরিস্ট ভিউ পয়েন্ট–১ থেকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং এবং ডিম পাহাড় দেখা যায়।

দিক নির্ণয়ের জন্য সেখানে তিনটি ভিউ পয়েন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকেরা সেখানে গেলেই এ তিন স্থান দেখার সুযোগ পান। বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। পর্যটকেরা সেখানে বসে চারদিকের দৃশ্য দেখতে পান। রয়েছে ছোট্ট একটি পানির ফোয়ারা। ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে বিশাল জায়গা।

ট্যুরিস্ট ভিউ পয়েন্ট–২ এ রয়েছে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার ব্যবস্থা। বিশাল একটি বৃক্ষ ছায়া দিয়ে রাখছে পুরো পর্যটন এলাকাকে। পর্যটকেরা সেখানে বেড়াতে গেলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে অন্য রকম আনন্দ উপভোগ করেন। সেখানে গেলে যেন মনে হয়, শুধু ছবি তোলার জন্য আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে তমা তুঙ্গীকে। তাই নতুন হলেও দিন দিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম বা দেশের যেকোনো স্থান হতে সড়ক পথে বান্দরবান গিয়ে সেখান থেকে থানচি উপজেলায় যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জেলা সদর থেকে বাস, জিপ, মাইক্রো অথবা মোটর সাইকেল ভাড়া নিয়েও থানচির তমা তুঙ্গী যাওয়া যায়। সদর থেকে সড়কপথে তিন ঘন্টার পথ পাড়ি দিয়ে থানচি সদরে গিয়ে সেখান থেকে মাত্র ১০-১২ মিনিটের পথ গেলেই তমা তুঙ্গী পর্যটন স্পট।

জানা গেছে, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের (ইসিবি) উদ্যোগে থানচি উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে তমা তুঙ্গী নামে পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়। থানচি-রিমাকরী-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করার সময় তমা তুঙ্গী পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলে সেনাবাহিনীর ইসিবি ব্রিগেড।

২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর পর্যটন কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ৩৪ ইসিবির ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মনজুরুল ইসলাম এটি উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের আগে থেকেই তমা তুঙ্গীর নাম ছড়িয়ে পড়ে পর্যটকদের কাছে। থানচি ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকেরা তমা তুঙ্গীতে ছুটে যান, এর নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে।

থানচি সদরের বাসিন্দা থুইনুচিং মারমা, শিউলী তঞ্চঙ্গ্যা, রূপালী ত্রিপুরা, ফিলিপ ত্রিপুরা ও জুয়ের ম্রো জানান, যাতায়াতের সুবিধা থাকায় পর্যটকেরা সহজেই তমা তুঙ্গীতে যেতে পারেন। যাতায়াত খরচ খুবই কম। বিকেলের আড্ডার জন্যও উপযুক্ত স্থান। তাই দ্রুত তমা তুঙ্গী পর্যটকদের কাছে পছন্দের স্থান হয়ে উঠবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

ঢাকা থেকে তমা তুঙ্গীতে বেড়াতে আসা পর্যটক নাসিব ইকবাল জানান, জেলা সদর থেকে অনেক দূরে হলেও যাতায়াতের সুবিধা থাকায় অনায়াসেই জিপ, মাইক্রো বা বাসে চেপে কিংবা মোটর সাইকেলে চড়ে তমা তুঙ্গী যাওয়া যায়। এমন প্রশস্ত রাস্তা বান্দরবানের আর কোনো পর্যটন কেন্দ্রে দেখা যায় না।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউল গণি ওসমানী বলেন, বান্দরবানের যে কয়েকটি উপজেলা রয়েছে তার মধ্যে থানচি অপূর্ব, কেননা এখানে সব কিছুই রয়েছে। পর্যটকদের বেড়ানো আর উপভোগের জন্য এই উপজেলার পথে প্রান্তরে রয়েছে মেঘ, পাহাড়, নদী আর ঝর্ণাসহ অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র।

তিনি আরও বলেন, তমা তুঙ্গী চালু হওয়ায় এই উপজেলায় আগের চেয়ে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য উপজেলা প্রশাসন সার্বিক তদারকি অব্যাহত রেখেছে।