মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮

নারায়ণগঞ্জ সিটির নির্বাচন: ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকবে

প্রকাশিতঃ শনিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ৬:২৯ অপরাহ্ণ


নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণের সময় ভোটদানের গোপনীয়তা রক্ষায় সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার।

নগরীর মরগ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গনে শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।

হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার শুক্রবার রাতে একজন বিশেষ প্রার্থীকে সুবিধা দিতে ভোট কেন্দ্রগুলো থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা বলেন, ‘কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা কাজ করবে না। কেন্দ্রে যদি সিসি ক্যামেরা কাজ করে, তাহলে তো কেন্দ্রের ভেতরে বুথের গোপনীয়তা রক্ষা হলো না। কাজেই কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকবে। সব কেন্দ্রে তো নেই। যেখানে আছে সেখানে বন্ধ থাকবে।’

শেষ সময়ে ভোটারদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের কী বার্তা থাকবে, জানতে হাওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। তিনি বলেন, ‘ভোটাররা তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে আসবেন। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে আসবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা ভোট কেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন। ভোট শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে যাবেন।’

প্রার্থীরা দাবি করলেও, নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই বলেও মনে করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে কোনো প্রার্থী অভিযোগ করেছেন কি না, জানতে চাইলে মাহফুজা আক্তার বলেন, ‘না, আমাদের কাছে এ রকম কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে।

‘ভোটকে সামনে রেখে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডেপ্লয়মেন্ট হয়ে গেছে। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সবাই তাদের কার্যক্রমে নেমে গেছেন।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ভোট উপলক্ষে শুক্রবার শেষ হয়েছে ১৮ দিনের বিরামহীন প্রচারণা। এবার ভোটের অপেক্ষা। রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে একটানা ভোটগ্রহণ। ভোট হবে ইভিএম পদ্ধতিতে। পাঁচ বছরের জন্য নতুন নগরপিতা পাবে নারায়ণগঞ্জ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট সাতজন প্রার্থী। আর ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সংখ্যা ১৪৮ জন। আর ৯টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর সংখ্যা ৩২।

তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা মেয়র পদ ঘিরে। আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী টানা দুই বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার।

শেষ দিনেও দারুণ ব্যস্ত সময় পার করেছেন এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সম্ভাবনা আর উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে নিজেদের পক্ষে ভোট চেয়েছেন তারা।

নির্বাচন ঘিরে কিছু শঙ্কার কথা জানালেও জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী দুই প্রার্থী।

নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯২টি। আর ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন, যাদের মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৬ জন, আর নারী ভোটার আছেন ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১১ জন।

১৯২টি কেন্দ্রের সব কটিতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সকালে শুরু হয়েছে নারায়গঞ্জের জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে অবস্থিত রিটার্নিং কর্মকর্তার অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানোর কাজ।

এদিকে, ১৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি কেন্দ্রকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।