মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

চারটি সাজা পরোয়ানা নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি

প্রকাশিতঃ Tuesday, January 18, 2022, 10:46 pm


চট্টগ্রাম : ৪৪ লাখ ৯১ হাজার আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচটি মামলা তাঁর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে চারটি মামলায় সাজাও হয়েছে। এরপরও দিব্যি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। নির্মাণসামগ্রী নেওয়ার নাম করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া রেজাউল করিম রিজু নামের এই ব্যক্তি মুক্তভাবে চলাফেরার বিষয়টি এখন অনেকের কাছে বিস্ময়।

পুলিশের খাতায় দুই বছর ধরে পলাতক রেজাউল করিম রিজু চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিবিরহাট আন্ডা মার্কেট এলাকার মৃত জাকির সওদাগরের ছেলে। তিনি নগরের পাঁচলাইশের হিলভিউ হাউজিং সোসাইটির ৪ নং রোডের ৫৩ নং বাড়িতে থাকেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মো. সিরাজুল হক নামের এক ব্যক্তি নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা করেন। অন্যদিকে রেজাউল করিম রিজু একজন আবাসন ব্যবসায়ী। ভবন নির্মাণের কাজে রিজুকে রড, সিমেন্ট, বালুসহ নানা নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেন সিরাজুল।

এ প্রেক্ষিতে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সিরাজুলকে ৪৪ লাখ ৯১ হাজার চেক প্রদান করেন রিজু। কিন্তু ব্যাংকে টাকা না থাকায় পাওনা টাকা পাননি সিরাজুল। একপর্যায়ে পাওনা আদায়ে আদালতে চেক প্রতারণার অভিযোগে পাঁচটি মামলা করেন সিরাজুল।

এর মধ্যে একটি মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রামের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রিজুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ২০২০ সালের ১০ মার্চ অপর মামলায়ও রিজুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ টাকা অর্থদণ্ড দেয় একই আদালত। এছাড়া সিরাজুলের দায়ের করা আরও দুটি মামলায় সম্প্রতি সাজা হয়েছে রিজুর।

মামলার বাদী মো. সিরাজুল হক বলেন, ‘একটি স্টিল কোম্পানীর কাছ থেকে বাকিতে রড নিয়ে রিজুকে সরবরাহ করেছিলাম। এখন সেই কোম্পানি পাওনা আদায়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সেই মামলা চালাতে গিয়ে আমি সর্বশান্ত। রিজু আমার পাওনা টাকা না দিলেও ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাটগুলো বিক্রি করে ঠিকই নিজের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রিজুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া সাজা পরোয়ানা ফটিকছড়ি ও পাঁচলাইশ থানায় আছে। কিন্তু এখনও সে গ্রেপ্তার হচ্ছে না। সাজা হওয়ার পর সে গুলশানে অফিস স্থাপন করে ব্যবসা করছে। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করে।’

চট্টগ্রাম মহানগর ‍পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রিজুর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পাঁচলাইশ থানার ওসিকে বলা হয়েছে।’