চট্টগ্রাম : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বের স্বাদ পেয়েছে চট্টগ্রামের ছাত্রনেতারা। চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম আইন কলেজের নেতৃত্বে থাকা অন্তত ১৬ জন নেতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ঠাঁই পেয়েছেন। গত ২৮ জুলাই ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত সদস্য মনোনয়নের চিঠি এরমধ্যেই হাতে পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মোলনে সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই সম্মেলনে চট্টগ্রাম থেকে স্থান না পাওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন।
সারাদেশেই চট্টগ্রাম আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক সূর্যসেন, ফরাসি আন্দোলনের মহানায়ক ‘জামর’সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অনেক বরপুত্রের জন্মভূমি এই চট্টগ্রাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল প্রেরণাশক্তি ঐতিহাসিক ছয়দফা ঘোষণা করেছিলেন এই চট্টগ্রাম থেকেই। এরপরও বিভিন্ন সময় নেতৃত্ব নির্বাচনে চট্টগ্রামকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে এবার জায়গা পেয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর-দক্ষিণ ও বিভিন্ন ইউনিট মিলিয়ে ১৩ জন ত্যাগী ও মেধাবী ছাত্রনেতা। যাদের অনেকে এক এগারো, জঙ্গীবাদ দমন, বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সহিংস আন্দোলন মোকাবেলায় রাজপথে সরব ছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে স্থান পাওয়া নেতারা হচ্ছেন মহানগর ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রেজাউল আলম রনি, মহিউদ্দিন মাহি, রাহুল বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফানুল আলম জিকু, সনেট চক্রবর্তী, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রাজেশ বড়ুয়া, আবদুল্লাহ হিমু।
এছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা থেকে স্থান পেয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সহ সভাপতি কাজী গোলাম সরোয়ার সুরুজ, সহ সভাপতি কাজী নাবিল করিম জামি,চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ সম্পাদক বাবর উদ্দিন সাগর।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি উপল চাকমা, চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি ওয়ায়েছ কাদের ও শাহেদ মিজান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে স্থান পেয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ জেলা থেকে রাশেদুল ইসলাম নামের একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য পদে জায়গা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে একযোগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে স্থান পাওয়ায় চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সদস্য ইরফানুল আলম জিকু বলেন, দেরিতে হলেও চট্টগ্রাম থেকে ত্যাগী ছাত্রনেতারা মূল্যায়িত হয়েছেন সেজন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আশাকরি আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা সক্ষম হবো।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম রাজনীতির একটি তীর্থস্থান। অনেক নেতাকর্মী সৃষ্টি হয় বীর প্রসবনী চট্টগ্রাম থেকে। চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সৃষ্টিতে বরাবরই আমাদের সদিচ্ছা আছে। কিন্তু নানা জটিলতায় প্রথম দিকে স্থান না হলেও এবার আমরা কেন্দ্রে স্থান দিয়েছি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নতুন এই কাফেলা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নের নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক।
