বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

একুশে পত্রিকায় সংবাদ: টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের কারখানায় অভিযান

প্রকাশিতঃ Wednesday, January 26, 2022, 5:25 pm


সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল: দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জীবন, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য-পরিবেশ শিরোনামে একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ২ ঘন্টার মধ্যেই সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের এসকেএম আলী চৌধুরী পাড়া এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

বুধবার বেলা ১২টায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার। অভিযানে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এস এস ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় পরিবেশ দূষণের বেশকিছু প্রমাণ পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একইসাথে এস এস ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষকে কারখানার তেল উৎপাদনসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযানে এস এস ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় পরিবেশ দূষণে সহায়ক চারটি চুল্লি ও ৫টি বিটুমিন ট্যাঙ্ক দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও কয়েক হাজার পুরনো টায়ারের স্তূপ ও জ্বালানি কাঠ দেখা যায়। পাহাড়ি গাছপালা কেটে টায়ার পোড়ানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ওই প্রতিষ্ঠান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরা এস এস ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের যে অভিযোগ পেয়েছি তার সত্যতা মিলেছে। ২০১৬ সালে তারা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একটি ছাড়পত্র নিয়েছিল যেটি বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। তাছাড়া তারা সেই ছাড়পত্রে উল্লেখিত পরিবেশের কোন শর্তই মানেনি। সব শর্তই তারা ভঙ্গ করেছে। পরিবেশ দূষণের যে চিত্র তার একটি জলন্ত উদাহরণ এস এস ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা। আমরা তাদের কাগজপত্রসহ সবকিছু তদারকি করছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য ৮ বছর ধরে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের এসকেএম আলী চৌধুরী পাড়া এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে স্থানীয় খায়রুল বশর চৌধুরীর কাছ থেকে ২ একর পাহাড়ি জায়গা লিজ নিয়ে টায়ার পোড়া কারখানা স্থাপন করেন দুই ব্যবসায়ী। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিলেও পরবর্তীতে সেটির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি৷ পরিবেশ অধিদপ্তরের দেয়া সব শর্ত ভঙ্গের অভিযোগও প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে এস এস ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গাড়ির পুরনো টায়ার পুড়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদন করছিল এস এস ইন্ডাস্ট্রিজ। অন্যদিকে টায়ারের পোড়া কালো পাউডার ছাপাখানার কালির উপাদান হিসেবে এবং টায়ার থেকে পাওয়া তার রি-রোলিং মিলসে সরবরাহ করে আসছে ওই প্রতিষ্ঠান। পরিবেশ দূষণ করে পরিচালিত এ কারখানা ওই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে হুমকিতে ফেলে মারাত্মক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল। কালো কালি, কালো ধোঁয়া আর উৎকট গন্ধ থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।