বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

এমপি মোস্তাফিজের নির্দেশেই আমাকে মারধর করা হয়েছে : মেয়র সেলিমুল

প্রকাশিতঃ Wednesday, January 26, 2022, 7:49 pm


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী তার ওপর হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে দায়ী করেছেন।

আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিমুলের দাবি— মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এমপির দূরত্ব আছে। এর প্রতিশোধ নিতে এমপির নির্দেশে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

সেলিমুলের দাবি— দলের স্থানীয় এক নেত্রীর বাসায় কয়েকজন রাজনৈতিক সহকর্মীসহ অবস্থানের সময় এমপির অনুসারীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তিনি ওই বাসায় যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। কিছুক্ষণ পর চারজন ভেতরে ঢোকে মেয়রকে বলে— তুমি এখন এখান থেকে নেমে যাও।

মেয়র বলেন— কেন নামব? তখন তারা ‘তুই এমপির বিরোধিতা করেছিস, এমপিকে গালাগালি করেছিস’— এসব বলতে বলতে শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর চারজন মিলে তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়রকে উদ্ধার করে।

হামলার পর আবার ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একজন বয়োবৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তিনি চারজনের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

হামলার জন্য এমপি মোস্তাফিজকে দায়ী করে মুক্তিযোদ্ধা সেলিমুল বলেন, ‘হামলাকারী সিরাজ, মিনার ও ইলিয়াছ এমপির লোক হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর থেকে এমপির লোকজন আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে।’ প্রথমে হামলার জন্য নতুন পৌর মেয়র এস এম তোফায়েল বিন হোসাইনকে দায়ী করলেও এখন এমপিকে অভিযুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হামলার পরদিন আমি থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। ওসি সাহেব তখন এমপিকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এমপি মামলা নিতে বলেন। আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু তিনি মামলা নিতে সম্মতি দিয়েছেন, তাহলে তিনি নিশ্চয় এর সঙ্গে জড়িত নন। কিন্তু র‌্যাব দু’জন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তারা বলেছে, এমপির নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার কারণ প্রসঙ্গে সেলিমুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান আগে থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ক্ষুব্ধ। বাঁশখালীতে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বলে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন। যে কারণে মুক্তিযোদ্ধারা উনার ডাকে সাড়া দেন না। নানা কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ওনার দূরত্ব রয়েছে। বাঁশখালীতে সংগঠনের খুবই দূরবস্থা। নিজস্ব বাহিনী এবং জামায়াত-বিএনপির লোক দিয়ে সংগঠন চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের পদে আছে এমন পাঁচজন লোকও ওনার সঙ্গে নেই। এমপি মোস্তাফিজ বাঁশখালীতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে চায়। ঘটনার দিন পুলিশ গিয়ে উদ্ধার না করলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলা হত। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এমপির রাজত্ব থেকে বাঁশখালীর মানুষকে মুক্তি দিন’ বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিমুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার (অর্থ) আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরওয়ার আলম মণি এবং চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আহবায়ক সাহেদ মুরাদ সাকু।

উল্লেখ্য, ৭৫ বছর বয়সী শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। গতবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও এবার তার পরিবর্তে পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন পান চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট এস এম তোফায়েল বিন হোসাইন। নির্বাচনে তোফায়েলকে সমর্থন করেননি বর্তমানে মেয়র পদে থাকা সেলিমুল, নতুন মেয়র দায়িত্ব নিলে যার মেয়াদ শেষ হবে।

গত ১৭ জানুয়ারি বাঁশখালী পৌরসভার নির্বাচন হয়েছে। এর পরদিন রাত ৮টার দিকে সেলিমুল গিয়েছিলেন পৌরসভার মিয়ার বাজার এলাকায় উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হীরা মণির বাসায় চায়ের দাওয়াতে। সেখানে অতর্কিতে চারজন ঢুকে সেলিমুলের ওপর হামলা করে।