বিএসসির নতুন ৬ জাহাজ কেনার তথ্য পাচ্ছে না বিএসইসি


মোহাম্মদ রফিক : বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) নতুন ছয়টি জাহাজ কেনা সংক্রান্ত কোন তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাহাজগুলো কেনার প্রকল্পখাতে বিএসসির প্রাক্কলিত আয়, পরিচালন ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয়, আর্থিক খরচ, মোট মুনাফা, নিট মুনাফার পরিমাণ কত তা নিয়ে নানা সন্দেহ দানা বাঁধছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসি’র দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা একুশে পত্রিকার কাছে কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিএসসিকে চিঠি দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসি’র কোম্পানি সচিব মুহম্মদ আশরাফ।

জানা গেছে, নতুন ছয়টি জাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত সম্প্রতি বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, নতুন যে ৬টি জাহাজ কেনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে আছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি মাদার ট্যাংকার, ৮০ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার ও ৮০ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার। প্রসঙ্গত, আশির দশকের প্রথমদিকে বিএসসির বহরে একসঙ্গে সর্বমোট ২৮টি জাহাজ ছিল। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সে সংখ্যা বাড়িয়ে বিএসসিতে মোট ৪৪টি জাহাজ যুক্ত করা হয়।

বিএসইসি কেন বিএসসি’র কাছে নতুন ছয়টি জাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসইসি’র এক কর্মকর্তা জানান, বিএসসি’র নতুন জাহাজ ক্রয় শীর্ষক প্রকল্পের বিপরীতে সরকারের প্রদত্ত ঋণের সুদ ও আসল ইকুইটিতে রূপান্তরের বিষয়ে বিএসইসি’র মতামত চায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। উপর্যুক্ত বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য বেশ কিছু তথ্য প্রয়োজন।

বিএসসি’র কাছে দেওয়া ওই চিঠিতে মতামত প্রদানের বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখ করার কথা জানিয়ে বিএসইসি’র এই কর্মকর্তা জানান, জাহাজ কিনতে ঋণ গ্রহণের তারিখ ও ঋণের মেয়াদ, গ্রহণকৃত ঋণের সুদ ৫ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত কতটুকু পরিশোধ করা হয়েছে এবং কতটুকু অপরিশোধিত রয়েছে, ঋণের সুদ হিসাবায়নের খাত সমূহ ও তার খতিয়ানের অনুলিপি, কোন তারিখ হতে ওই ৬টি ভেসেল ব্যবহার উপযোগী হয়েছিল, সেই সাথে কোন তারিখ হতে ওই ৬টি ভেসেলের প্রকৃত ব্যবহার শুরু হয়েছে, প্রতি বছরের প্রকৃত ও প্রাক্কলিত ব্যবহার সক্ষমতা, পাঁচ বছরের প্রাক্কলিত ক্যাশফ্লো স্টেটমেন্ট (ডিরেক্ট মেথড) এবং সবশেষে পাঁচ বছরের প্রাক্কলিত আর্থিক খরচের স্পষ্ট বর্ণনা প্রদানের জন্য চিঠিতে বিএসসি’র কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বিএসিসি’র চিঠির উত্তর না মেলায় বিএসসি’র ভূমিকা নিয়ে নানা সন্দেহ সংশয়ের উদ্রেক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএসিসি’র এই কর্মকর্তা।

এই কর্মকর্তা জানান, এর আগেও বিএসইসি’র কাছে নতুন জাহাজ কেনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য চেয়েছিল বিএসইসি। সেখানে জাহাজ ক্রয় শীর্ষক প্রকল্পের বিপরীতে সরকারের প্রদত্ত ঋণের সুদ ও আসল ইকুইটিতে রূপান্তরের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরবর্তী ৫ বছর সময়কালে প্রাক্কলিত আয়, পরিচালন ব্যয়, প্রশাসনিক ব্যয়, আর্থিক খরচ, মোট মুনাফা, নিট মুনাফার পরিমাণ এবং শেয়ারপ্রতি আয়ের (ইপিএস) পরিমাণ কত হতে পারে সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়।

আর ঋণের অর্থ ইকুইটিতে রূপান্তরের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিএসসি’র যে সকল ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হবে তার স্পষ্ট বর্ণনা চাওয়া হয়। ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের বিষয়ে শেয়ারপ্রতি প্রদেয় মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ এবং সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ ও সরকারের বিনিয়োগকৃত অর্থের ঝুঁকির মাত্রার হ্রাস বৃদ্ধি বিষয়ক স্বতন্ত্র প্রতিবেদন চাওয়া হয়।