সিঙ্গাপুর থেকে ফজলে রুবেল : স্বজন, প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার কষ্ট ভুলতে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি শ্রমিকদের গড়া ‘মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ড’ কেবল সেই কষ্টই থামায়নি, ব্যান্ড দলটি এখন বাংলাদেশি সংস্কৃতির পতাকা উড়াচ্ছে সিঙ্গাপুরের মাটিতে।
২০১১ সাল থেকে অনুশীলন শুরু হলেও ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা হয় শ্রমিকদের ভালোবাসার দাম দিয়ে গড়া এই ব্যান্ড দলটির।
সিংগাপুরের টিডব্লিউসি-২ নামের একটি এনজিও তাদের অফিসে মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ডদলকে অনুশীলনের ব্যবস্থার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র রাখার সুযোগ করে দিয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা প্রতি রবিবার ছুটির দিনে গানের চর্চা করেন আনন্দ-আড্ডায়, সুরেই ভোলেন প্রবাস জীবনের কষ্ট।
প্রবাসে কাজ করতে করতে যখন একজন শ্রমিকের পরিবার পরিজনের কথা ভীষণ মনে পড়ে, নিজেকে খুব অসহায় মনে হয় তখনই এখানে ছুটে আসেন তারা। মেতে উঠেন বিনোদনে।
শুরুটা খুব কষ্টের হলেও এখন মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ড সিংগাপুরে বাংলা গান করে অনেক প্রশংসা, খ্যাতি অর্জন করেছে। বিদেশিদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলা গান, বাংলাদেশি সংস্কৃতি। তাই মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ডকে সিংগাপুরে বাংলাদেশি সংস্কৃতির পতাকাবাহী বলেও মনের করে থাকেন অনেকে।
বর্তমানে মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ডের ১০ জন নিয়মিত শিল্পী, ৬ জন বাজিয়ে আছেন। প্রতিদিনের টিফিনের টাকা জমিয়ে শিল্পী এবং কলাকুশলিরা কিনে নিয়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র। যা দিয়ে তারা ইতিমধ্যে সিংগাপুরে প্রায় ২৫টির মতো কনসার্ট আয়োজন করেছে।
মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ড যেমন অনেক কনসার্টে আমন্ত্রণ পায়, তেমনি নিজেরাও কনসার্টের আয়োজন করে। ২০১৬ সালে ব্যান্ডদলটি একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির স্পন্সরে জমজমাট কনসার্টের আয়োজন করে। যেখানে দেশি-বিদেশি প্রায় ২০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
যারা সুর ভালোবাসেন মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ড তাদের জন্য রেখেছে সহজে অনুশীলনের ব্যবস্থা। এরকম নতুন গান শিখিয়ে কিংবা অনুশীলনকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১৫ জনের কম নয়।
মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ড-এর প্রধান নীল সাগর জানান, তারা গানের প্রতি ভালোবাসা থেকে এই সংগঠন করেছেন। তারা চান গানের সঙ্গে বাঁচতে, ভালোবাসার সংগঠনটিকে টিকিয়ে রাখতে। পৃথিবীর সব জঞ্জাল ছাপিয়ে ভালোবাসায় বসবাস, মানুষে মানুষে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সুরের বিকল্প নেই। যোগ করেন নীল সাগর।
বিদেশের মাটিতে প্রবাসী শ্রমিকদের করা এটাই কোনো প্রথম ব্যান্ডদল। তাই মাইগ্র্যান্ট ব্যান্ডের সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যাশা- বিশ্বের যেখানেই বাঙালি শ্রমিক কর্ম করছেন সেখানেই গড়ে উঠুক আরো এমন সুরের প্রেম, সুরের সংগঠন।
