চল্লিশ বছর বয়সেই বা কেন বড় জানাজা চাইবেন ডা. সামিনা?


চট্টগ্রাম : মৃত্যুর আগে ‘বড় জানাজা’ চেয়েছিলেন ডা. সামিনা আক্তার। বছরখানেক আগে ছোটভাই তুল্য রায়হান সুলতানের সঙ্গে ফেসবুকে চ্যাটিংয়ে এমনই আকুতি জানান সামিনা।

বিধাতা হয়তো তার ইচ্ছেটা কবুল করে ফেলেছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের মেহেদীবাগে চউক শিশু কানন স্কুল মাঠে ডা. সামিনার জানাজায় তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

নগরীর বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন ডা. সামিনা আক্তার। মাত্র ৪০ বছর বয়সেই ‘বড় জানাজা’ চেয়ে বসেছিলেন তিনি। হয়তো তিনি জানতেন এই ধরাধামে বেশিদিন থাকছেন না।

ডা. সামিনার ‘বড় জানাজা’ চাওয়ার স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ১১টা ৫১ মিনিটে ফাইজুস মাসুম লিখেছেন, “ডা. সামিনা আক্তার আর নেই। গত পরশু রাতে রেডিসনের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। ওনার জীবনের শেষ ইচ্ছে ছিল জানাজায় অনেক মানুষ হবে। আজ বাদ জোহর মেহেদীবাগ সিডিএ মসজিদে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।”

আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের কর্মকর্তা ফাইজুস মাসুম একুশে পত্রিকাকে জানান, ড. সামিনা তার একজন ব্যাচমেটের ছোট ভাই রায়হান সুলতানকে ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, বড় জানাজার আকাঙ্ক্ষার কথা। আল্লাহ ওনার আশা পূরণ করেছেন।

রায়হান সুলতান কর্মরত আছেন ইস্টার্ন ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজার পদে; ডা. সামিনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আসলে খুবই খারাপ লাগছে, মৃত্যুর বিষয়টি শুনে। আমার জানাজায় অনেক মানুষ হবে, এটা আমার চাওয়া। বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করার পর তিনিও (ডা. সামিনা) জানালেন, বড় জানাজার পাশাপাশি ঈমানের সহিত মৃত্যু চান।’

‘এই মৃত্যুর দিনটি যে এত দ্রুত আসবে, মেনে নিতে পারছি না। হৃদয়টা ভার হয়ে আছে, সারাক্ষণই মনের মধ্যে সেই পুরোনো চ্যাটিংয়ের স্মৃতি। ডা. সামিনা আজ আর আমাদের মাঝে নেই, এটা ভাবা যায় না। এটা বেদনাদায়ক আর নিষ্ঠুরতম এক বাস্তবতা।’

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের এসএস খালেদ সড়কের রেডিসন ব্লু’র সামনে সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা সামিনা আক্তারকে বহনকারী রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সামিনা আক্তারের অপারেশন করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সেই রাতেই তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন তিনি।

চমেক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রণয় কুমার দত্ত বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সামিনার আর জ্ঞান আর ফেরেনি। দুর্ঘটনায় তিনি মাথা ও বুকে আঘাত পেয়েছিলেন। আজ সকালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

ডা. সামিনা চট্টগ্রামের ইউএসটিসির পঞ্চম ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্রী। মৃত্যুর সময় সামিনা স্বামী, এক মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। সামিনার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলায়। তার পরিবার নগরীর মেহেদীবাগে বসবাস করেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের এ চিকিৎসকের মৃত্যুতে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার পক্ষ থেকে গভীর শোক জানাচ্ছি। পাশাপাশি অভিযুক্ত অটোরিকশাচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. নেজাম উদ্দীন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ডা. সামিনা আক্তারকে ধাক্কা দেওয়া সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।’