
হবিগঞ্জ : নামের মিলের কারণে একটি যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিনা অপরাধে আট দিন কারাভোগ করেছেন এক যুবক।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন (২১) হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ফান্দ্রাইল গ্রামের আবদুল হান্নান ওরফে মন্নান মিয়ার ছেলে ছেলে।
আজ বুধবার বিকেলে হবিগঞ্জ আমলি আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এক আদেশে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছেন। পাশাপাশি যে পুলিশ কর্মকর্তার ভুলে এ ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, চুনারুঘাট উপজেলার শ্রীবাউর গ্রামের আবদুল মন্নানের ছেলে জসিম উদ্দিনের (২৪) বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি যৌতুক মামলা করেন তার স্ত্রী জনি আক্তার।
এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন উপজেলার ফান্দ্রাইল গ্রামের আবদুল হান্নান ওরফে মন্নান মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিনকে (২১) ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বাবা আবদুল হান্নান ওরফে মন্নান একই দিন আদালতে এক আবেদনে জানান, তার ছেলে জসিম উদ্দিন কোনো মামলার আসামি নন। এ ছাড়া মামলার বাদী জনি আক্তার তার স্ত্রী নন।
এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ আমলি আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন বিষয়টি তদন্তের জন্য চুনারুঘাট থানাকে নির্দেশ দেন।
এরপর চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম তদন্ত করে আদালতকে জানান, যে ব্যক্তিকে (জসিম উদ্দিন) গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি যৌতুক মামলার আসামি নন। তার নাম ও বাবার নামে মিল থাকায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন ভুলক্রমে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেন। মামলার প্রকৃত আসামি জসিম উদ্দিন (২৪) এখনো পলাতক।
হবিগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক আনিসুর রহমান জানান, আজ বিকেলে শুনানি শেষে হবিগঞ্জ আমলি আদালত-২-এর বিচারক গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিনকে মুক্তির আদেশ দেন। পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসংক্রান্ত মামলা রুজু ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিনের বাবা আবদুল হান্নান ওরফে মন্নান বলেন, ‘কোন দোষ না করেই আমার ছেলে আট দিন কারাগারে ছিল। বিচারক মহোদয়ের হস্তক্ষেপে আমার ছেলে দ্রুত মুক্তি পেয়েছেন। আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি চাই।’
