
ঢাকা : পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেছেন, বিশ্বে দ্রুত ধনী হওয়ার হার বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। অথচ ধনীদের মধ্যে কর প্রদানের প্রবণতা কম, ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে; যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। দেশে দরিদ্রদের সংখ্যা বাড়লেও সরকারের নীতি নির্ধারকরা এটি স্বীকার করছেন না। যে কোনো সমস্যা অস্বীকার করলে তার সমাধান সহজ হয় না।
আজ শুক্রবার সকালে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ভোজ্যতেল নিয়ে যারা কারসাজি করেছে তারা যত শক্তিশালী হোক তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিত। দৃশ্যমানভাবে কয়েকজনকে শাস্তি দিতে পারলেই অন্যরা বাজার সিন্ডিকেটসহ অন্যান্য অনিয়ম করতে ভয় পাবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, কিছু অতিলোভী অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি করছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সুশাসনের অভাব এবং সরকারি সংস্থাগুলোর অদক্ষতা ও সমন্বয়হীনতা এর জন্য দায়ী।
ড. কাজী খলীকুজ্জামান আরো বলেন, আসন্ন রমজানে পুণ্য অর্জনের জন্য দ্রব্যমূল্য কমে আসার কথা। কিন্তু উল্টো কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৌশলের মাধ্যমে রমজানের আগেই বেশি দামে পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন। দেশে সম্পদের অভাব নাই। রয়েছে সম্পদের সুষ্ঠু ও ন্যায্য বণ্টনের অভাব। সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য ব্যাপক হারে বাড়ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, টালমাটাল বিশ্ববাজার। যুদ্ধের প্রভাবে পণ্য বাজার উত্তাল। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটতে ব্যস্ত। বাজারের উত্তাপ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এখন টিসিবির ট্রাকের পেছনে ভিড় জমাচ্ছে। দেশের জিডিপি বাড়লেও এর সুফল সর্বস্তরের মানুষ পাচ্ছে না। ধনীরা ক্রমাগত ধনী হচ্ছে, গরিবরা ক্রমাগত আরো গরিব হচ্ছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটিকে হারিয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শিরোনামে প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক, ড. এস এম মোর্শেদ, কৃষিবিদ ফালগুনী মজুমদার ও সাংবাদিক রিয়াদ হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
