চট্টগ্রাম কারাগারে একের পর এক মৃত্যু, উদ্বেগ


মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত ৬ দিনের ব্যবধানে ৫ জন বন্দী মারা গেছেন। এতে অন্য বন্দীদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

কারাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘চিকিৎসাধীন’ অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, চমেক হাসপাতালে নয়, বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই তাদের মৃত্যু ঘটেছে৷

কয়েক মাস আগে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বাসিন্দা, বিএনপির এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে সদ্য কারাগার থেকে বের হওয়া সাজ্জাত হোসেনের দাবি, কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মারা যান বিএনপির ওই নেতা।

সাজ্জাত বলেন, ‘কারা হাসপাতালে কোন চিকিৎসা নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শামীম রেজা সকাল দশটায় হাসপাতালে আসেন। বেলা ১২ টায় চলে যান। কোন বন্দী অসুস্থ হয়ে পড়লে গুরুতর পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারা হাসপাতালে আনা হয় না। হাসপাতালে থাকা কয়েদিরা ব্লাড প্রেশার মাপেন। ওষুধ দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দিনের নিদিষ্ট সময়ে (বিকাল চারটার দিকে) ওয়ার্ড লকআপ করার সময় কোন বন্দী বাস্তবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে মিয়া সাহেবকে খবর দেওয়া হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় জমাদারকে। জমাদার এসে অসুস্থতার ভান করছে বলে অসুস্থ বন্দীকে অপবাদ দেন, ধমক দেন। কারা চিকিৎসক ব্যস্ত থাকেন সুস্থ বন্দীকে অসুস্থ বানিয়ে কারা হাসপাতালে ভর্তি বাণিজ্যে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শামীম রেজা একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সাজ্জাত হোসেনের অভিযোগ সঠিক নয়। গত দুই মাসে যত বন্দী মারা গেছেন তাদের সবাইকে কারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।’

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে চট্টগ্রাম কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম কারাগারে দুই হাজার ২৪৯ জন বন্দী থাকার কথা থাকলেও এখন আছেন প্রায় ৭ হাজার বন্দী। গরমের মধ্যে গাদাগাদি করে থাকার কারণে বন্দীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

তবে বন্দীদের স্বজনদের অভিযোগ, কারাগারে বন্দীরা মারা যাচ্ছেন বিনা চিকিৎসায়। আবার কখনও বন্দী নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছেন স্বজনরা।

সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল একদিনে রফিক উদ্দিন (৫৪) ও বাবুল মিয়া (৩৪) নামে দুই হাজতির মৃত্যু হয়। দুজনই চন্দনাইশ থানার বাসিন্দা। এরমধ্যে রফিক উদ্দিন মারামারি সংক্রান্ত একটি মামলায় কারাগারে যান। অন্যদিকে বাবুল মিয়া মাদক আইনে কারাগারে যান।

এর আগে গত ৩১ মার্চ বুকের ব্যথায় মান্না ও মো. নুরুল আবছার (৪২) নামে দুই হাজতির মৃত্যু হয়। আগের দিন ৩০ মার্চ বুকে ব্যথা নিয়ে মারা যান যুবদল নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান।

এছাড়া গত ২ ফেব্রুয়ারি হায়দার আলী নামে (৩৫) নামে ৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি মারা যান বিভূতিভূষণ ভৌমিক নামে এক হাজতি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক এ.কে.এম. ফজলুল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘অসুস্থ বন্দীর চিকিৎসায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলা বা গাফিলতি করছে কি না আমার জানা নেই। কারা হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে অসুস্থ বন্দীকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিনা চিকিৎসায় বন্দী মারা যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডা. শামীম রেজার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কোন অভিযোগ এখনো পাইনি। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’