বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

‘হাতি বাঁচলে বাঁচবে বন, আর বন বাঁচলে বাঁচবে মানুষ’

প্রকাশিতঃ ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ১১:১০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : ‘আবাসস্থল ও খাদ্যের খোঁজে হাতি লোকালয়ে আসছে। এর প্রধান কারণ আমরা হাতির চলাচলের পথে বসতি গড়ে তুলছি, তাদের আবাসস্থলে চাষাবাদ করছি। যদি আমরা হাতি চলাচলের পথ মুক্ত রাখি এবং হাতির আবাসস্থলে শষ্যের চাষাবাদ না করি তাহলে আমার সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে হাতি বাঁচলে বাঁচবে বন, আর বন বাঁচলে বাঁচবে মানুষ।’

রোববার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার খুরুশিয়া রেঞ্জের সুখবিলাস বন বিশ্রামাগারে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে ইআরটি দলকে সরঞ্জাম এবং পোশাক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুখবিলাস ফিশারীজ এন্ড প্ল্যান্টেশনের চেয়ারম্যান এরশাদ মাহমুদ এসব কথা বলেন।

বনবিভাগ ও নেকমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘হাতি সংরক্ষণে আপনারা যেভাবে কাজ করছেন তা প্রশংসার দাবিদার। হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিতরণ করছেন, এতে মানুষ সচেতন হচ্ছে। সরকার যদি এভাবে হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে মানুষ একসময় দাওয়াত দিয়ে হাতিকে লোকালয়ে আনবে! এমন কার্যক্রমের জন্য আমি সরকার ও বন বিভাগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘ইআরটি সদস্য হিসেবে আপনারা যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা সম্পূর্ণ বিনাবেতনে স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে আপনাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কারণ মাঠপর্যায়ে আপনারাই কাজ করছেন। সরকার হাতি সংরক্ষণে প্রাণপণ চেষ্টা করছে। হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার ক্ষতিপূরণও দিচ্ছে। মানুষের কাছে হাতিকে বন্ধু হিসেবে পরিচিত করা গেলে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব আর থাকবে না।’

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগ ও নেচার কনজানশন ম্যানেজমেন্টের (নেকম) আয়োজনে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের ২টি এবং খুরুশিয়া রেঞ্জের ২টি ইআরটি দলের সদস্যদের সরঞ্জাম এবং পোশাক বিতরণ করা হয়।

নেচার কনজানশন ম্যানেজমেন্টের (নেকম) রাঙ্গুনিয়ার কমিউনিটি অরগানাইজার জোবায়েদ ইবনে শাহাদাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুরুশিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুম কবির, দুধপুকুরিয়ার বিট কর্মকর্তা মো. জামাল, কমলাছড়ি বিট কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, নারিশ্চা বিট কর্মকর্তা মিন্টু কুমার দে ও চিরিঙা বিট কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ প্রমুখ।