
এম কে মনির : চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বন্দরের সক্ষমতা, অগ্রগতি, বহির্বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান, বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন গতকাল রোববার। বন্দর চেয়ারম্যানের তথ্যবহুল বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনছেন, নোট নিচ্ছেন চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা। মঞ্চে বন্দরের চেয়ারম্যানের পাশে বসেছেন বন্দরের অর্থ, হার্বার ও মেরিনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ৩ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে সারিবদ্ধভাবে আসনে বসে বক্তব্য শুনছেন বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে বন্দরের চেয়ারম্যানের মূল্যবান বক্তব্য উপেক্ষা করে সংবাদ সম্মেলনেই ঘুমিয়ে পড়লেন বন্দরের কন্ট্রোলার অব স্টোরস পদে কর্মরত বিন্দু স্মৃতি চাকমা। সংবাদ সম্মেলন চলাকালে এ কর্মকর্তাকে পুরো সময়জুড়েই গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকতে দেখা গেছে।
এসময় তার পাশে থাকা আরেক কর্মকর্তা বিন্দু চাকমাকে সতর্ক করলেও তিনি এতোটাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন যে, হুশই ছিলো না। পরে বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্য শেষ হলে তার ঘুম ভাঙে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যানের বক্তব্য চলাকালে একজন কর্মকর্তার এহেন দায়িত্বহীন কাণ্ডে সাংবাদিক মহলেও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের চেয়ারম্যান ৪৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। আর এসময়ের পুরোটাই এ কর্মকর্তা ঘুমে কাটান। এ দৃশ্য দেখে কৌতূহলী কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘুমের ভিডিও ধারণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়া একাধিক সংবাদকর্মী বলেন, তিনি ঘুম নিয়ে অনুষ্ঠানে আসলেন কেন? ছুটে নিলেই পারতেন। বন্দরের চেয়ারম্যান বক্তব্য দিচ্ছেন আর তিনি ঘুমাচ্ছেন। এটি কি বন্দর চেয়ারম্যানকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন নয়? একজন কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কতটা গ্রহণযোগ্য–এই প্রশ্নও দেখা দেয়।
এব্যাপারে বারবার চেষ্টা করেও বিন্দু স্মৃতি চাকমার বক্তব্য জানা যায়নি। বক্তব্য জানার জন্য খুদেবার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বন্দর সচিব ওমর ফারুক একুশে পত্রিকাকে বলেন, আপনি ভিডিওটি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে দিন আমি দেখি। বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্য চলাকালে একজন কর্মকর্তা ঘুমাতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, কে সে নিশ্চিত না হয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। বিষয়টি শুনে অবাক হলাম।
