১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে সরকার জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা করছে : ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম : সরকার ১৫% ভ্যাট আরোপের মাধ্যমে জনগণের পকেট কাটার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২ লক্ষ ৮৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব টার্গেটের মাধ্যমে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। একদিকে বর্তমানে রপ্তানী আয় নিম্মমুখী, বিশাল মুদ্রাস্ফীতি, প্রবাসী আয় নিম্মমুখী, শিল্প কলকারখানা ধ্বংসের মুখে। অবকাঠামো বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জমির অভাবে শিল্প কলকারখানা এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ যেখানে শূন্যের কোটায় সেখানে জিডিপি ৭% এর উপরে বলে সরকার বাহাস করছে। জিডিপি ৭-এর উপরে দাবি করে সরকার আত্মতৃপ্তিতে ভুগলেও বাস্তবে আ-লীগের আমলে সেটা অর্জন কখনো হবে না।

ডা. শাহাদাত হোসেন বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আরো বলেন, ৪ লক্ষ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটে ১ লক্ষ ১২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ঘাটতি এটাও বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড। রাজস্ব আদায়ের নামে জনগণের কষ্টার্জিত ঘামের টাকা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

তিনি বলেন, আজকে আওয়ামীপন্থী বড় বড় ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো যখন লুটপাট করে দিচ্ছে, সেখানে জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা দিয়ে ব্যাংকের মূলধন জোগান দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ৭ বছরে ব্যাংকের ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লুটপাট হওয়া টাকা মূলধন জোগানের জন্য সরকার সাধারণ মানুষের পকেট হাতানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বাজেট-শিরোনামের সমালোচনা করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নের মহাসড়কে নয়, এখন “দুর্নীতির মহাসড়কে বাংলাদেশ”। তিনি বলেন, বাংলাদেশর জনগণের স্মৃতি থেকে এখনো মুছে যায়নি বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটের ৯০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারী, সোনালী ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের দুর্নীতি, বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার দুর্নীতি, পদ্মাসেতুর দুর্নীতি।

৮ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু এখন দাঁড়ায় ২৮ হাজার কোটি টাকায়। ভারতে যেখানে (৯.৫ কিলোমিটার) ধলাসেতু নির্মাণে লাগে ৯ হাজার ৫ শত কোটি টাকা, সেখানে ৫.৯ কিলোমিটারের পদ্মাসেতু নির্মাণে আমাদের লাগে ২৮ হাজার কোটি টাকা।
দুর্নীতির কারণে ঢাকা চট্টগ্রাম ৪ লাইনের রাস্তার ব্যয় ৮ থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে প্রতিটি মেঘাপ্রজেক্টে উন্নয়নের নামে চলছে হরিলুট।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কেটি টাকার লুটপাট বাংলাদেশ যে একটি দুর্নীতির মহাসড়কে অবস্থান করছে তাই ইঙ্গিত করছে। গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কিন্তু চট্টগ্রামে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বাসাবাড়িতে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। আওয়ামী পন্থী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী করেছে। কিন্তু এই অবৈধ সরকার সেটা দেখেও না দেখার ভান করছে। বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতেও তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশ ধর্ষণের দেশে পরিণত হয়েছে। ধর্ষকরা মন্ত্রী-এমপির ছত্রছায়ায় ঘুরে বেড়ায়, সরকার তাদের বিচার করতে পারে না। প্রধান বিচারপতি নিজেই বলেছেন, “দেশের আইনের শাসন নেই”।