
একুশে প্রতিবেদক : সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসা করা, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য, ঋণ দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা মিললেও বহাল তবিয়তে আছেন সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার সহকারী অফিসার (ক্যাশ) মো. সৈয়দুল আলম।
এর আগে সৈয়দুলের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান প্রধানের কাছে এ অভিযোগ দেন লিয়াকত আলী নামে এক ভুক্তভোগী। সৈয়দুল আলম ছাড়াও একই শাখায় কর্মরত প্রিন্সিপাল অফিসার এ এস এম এয়াকুবের বিরুদ্ধেও সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন লিয়াকত আলী।
সদর দপ্তরের নির্দেশে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন তৎকালীন সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম। কমিটির প্রধান করা হয় সোনালী ব্যাংক, লালদিঘি শাখার উপমহাব্যবস্থাপক মো. এয়াকুব মজুমদার। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, বহদ্দারহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক খালেদ জামান মিঠু এবং একই ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
অভিযোগ তদন্ত করে গত বছর ২৫ জুলাই আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। পরে প্রতিবেদনটি সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু ওই প্রতিবেদনে সৈয়দুল ও এয়াকুবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে তথ্য ঘাটতি ও ত্রুটি বিচ্যুতি থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপিত হয়নি তদন্ত প্রতিবেদনটি। বিষয়টি পুনঃতদন্তের জন্য গত বছরের ৯ আগস্ট তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলমকে চিঠি দেন সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স এন্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলম।
নাম প্রকাশ না করে তদন্ত কমিটির এক সদস্য একুশে পত্রিকাকে জানান, সৈয়দুল আলমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বছরখানেক আগে পুনঃতদন্ত করে তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে একটি প্রতিবেদন ঢাকায় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সাবেক গোডাউন কিপার বর্তমানে সহকারী অফিসার (ক্যাশ) সৈয়দুল আলমের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হওয়া, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্য, ঋণ দেয়ার গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং নিয়মবর্হিভূতভাবে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সহকর্মীদের ফ্ল্যাট কিনতে বাধ্য করাসহ নানা দুর্নীতি-অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশও করা হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে একবছর ধরে সেই তদন্ত প্রতিবেদন ফাইলবন্দি হয়ে আছে। ফলে বহাল তরিয়তেই আছেন সৈয়দুল আলম।
তদন্ত কমিটির প্রধান সোনালী ব্যাংকের লালদিঘী শাখার উপমহাব্যবস্থাপক মো. এয়াকুব মজুমদার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সৈয়দুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, কী যায়নি সেটি বলতে পারব না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো জানবেন।’
জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার উপ মহাব্যবস্থাপক নুরুল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’
এদিকে ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘সৈয়দুল আলম সরকারি কর্মচারি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সিবিএ এবং ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’র নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলির নামে চাঁদাবাজি, গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুনীতি করে আসছেন। ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সিবিএ নেতা বিএম বাকের হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সোনালী ব্যাংক, লালদিঘী শাখার গোডাউন কিপার হিসেবে চাকরি দেন সৈয়দুল আলম। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি আওয়ামী লীগ বনে যান। প্রথমে সিবিএ নেতা কেএম আজম-খসরু গ্রুপ করলেও পরে কামাল হাসান-খসরু গ্রুপে যোগ দেন সৈয়দুল’।
লিয়াকত আলী তার লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ‘সৈয়দুল আলম সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ দখলে রেখে এবং সংগঠনের পদবি ব্যবহার করে চট্টগ্রাম শহরে শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘মুন্নী টেলিকম’, ‘রাজভিশন’ ও ‘গড গিফট ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। তার নামে চট্টগ্রাম নগরের জুবিলী রোডে এবি ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংকের শাখায় রয়েছে একাধিক ঋণ। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, কাস্টমস হাউস শাখার এওজি- ১(ক্যাশ) সরওয়ারর্দীর মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাখা ম্যানেজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তার (সৈয়দুল আলম) দোকানে ডেকে নিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় ও তার ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্ল্যাট কিনতে বাধ্য করেন।’
সোনালী ব্যাংকের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কর্মচারী প্রবিধানমালা-২০০৮ এর ৩৭.২.৫ ও ৩৭.২.৬ ধারা মোতাবেক কোন কর্মচারী কর্তৃক কোন ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়া বা কোন ব্যবসা পরিচালনা করা এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই। কিন্তু সৈয়দুল আলম শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেটের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নির্বাচনে একাধিকবার অংশগ্রহণ করে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন। তদন্তেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবু রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সৈয়দুল আলম ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেটের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নির্বাচনে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘মোমবাতি’ প্রতীক নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। এভাবে সরকারি ব্যাংকের একজন কর্মচারী হয়েও সৈয়দুল আলম বনে গেছেন ব্যবসায়ী নেতা। শাহ আমানত সুপার মার্কেটে তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত এ মার্কেটে নিয়মবর্হিভূতভাবে একটি দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং দোকান মালিক আলী নুর নামে এক যুবককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসেন ‘ব্যবসায়ী নেতা’ সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা সৈয়দুল আলম। গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
শুধু দোকানদার আলীকে প্রাণনাশের হুমকি নয়, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে কৈফিয়ত চাইলে কোতোয়ালী থানার এসআই নয়ন বড়ুয়ার সাথেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন সৈয়দুল আলম। এ ঘটনায় গত ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী দোকানমালিক মো. আলী নুর। এতে বিবাদী করা হয়েছে- শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সৈয়দুল আলম, সভাপতি মো. আজিম উদ্দিন, তৃতীয় তলার ‘ইউনিভার্সেল মিডিয়া’র সত্ত্বাধিকারী মো. মুছা, দ্বিতীয় তলার ‘নোভা ইলেকট্রনিক’ এর মালিক শাহ ফখরুদ্দিনকে।
জিডি ডায়েরিভুক্ত হওয়ার আগে ঘটনার রাতে কোতোয়ালী থানায় ছুটে যান সৈয়দুল আলমসহ অন্যরা। ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করায় সৈয়দুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন কোতোয়ালী থানার ওসি জাহেদুল কবির। এসময় সৈয়দুল আলমের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার জন্য আলী নুরকে পরামর্শ দেন ওসি জাহেদুল কবির।
এ বিষয়ে এসআই নয়ন বড়ুয়া একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘চসিক কর্মকর্তা না হয়েও আলী নুরের দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ কেন বিচ্ছিন্ন করলেন, এমন চাওয়ায় সৈয়দুল আলম আমার সাথে চরম খারাপ আচরণ করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। সৈয়দুল এরআগেও একবার একই দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে ব্যবসায়ী নেতা বনে যাওয়া সৈয়দুল আলমের বিরুদ্ধে আলী নুরের করা সাধারণ ডায়েরি সুষ্ঠু তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’
জিডিতে মো. আলী নুর অভিযোগ করেন, ‘ছয় বছর ধরে তিনি শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার দোকানের নামে আদালতে মামলা চলছে। দোকান ভাড়া তিনি আদালতের মাধ্যমে পরিশোধ করে আসছেন। সিটি করপোরেশনকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন ব্যাংকের মাধ্যমে। ২৫ এপ্রিল দুপুরে বিবাদীরা তার দোকানের সামনে এসে উশৃঙ্খল ও মারমুখী আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তার দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।’
আলী নুর অভিযোগ করে বলেন, ‘শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতা সৈয়দুল আলম ও আজিম উদ্দিন গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরও আমার দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে মারধরের চেষ্টা চালান। তাদের কাজ শুধু একটা, তা হলো সমিতির নামে নিরীহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা। আমি তাদের এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করি বলে তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ।’
জানা গেছে, সৈয়দুল আলম গত ২৬ বছর ধরে শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকার তথ্য অনুযায়ী, মার্কেটের তৃতীয় তলায় সৈয়দুলের আছে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১৪৫ হোল্ডিং নম্বরে আছে ‘গড গিফট ডেভলপমেন্ট লিমিটেড’ (সদস্য নম্বর-১৫)। ১২২ হোল্ডিং নম্বরে আছে ‘রাজভিশন কম্পিউটার’ (সদস্য নম্বর-১৬)। সৈয়দুল আলমের দুই স্ত্রী। দুই স্ত্রীর সংসারে চার মেয়ে, এক ছেলে। প্রথম স্ত্রী শিক্ষকতা করেন। তিন মেয়েকে নিয়ে প্রথম স্ত্রী থাকেন চট্টগ্রাম নগরের আসকারদিঘির পাড় এলাকার রাম কৃষ্ণ মিশন লেইনের একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে। এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী থাকেন নগরের আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায়।
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দুল আলমের বক্তব্য :
সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা হওয়া প্রসঙ্গে সৈয়দুল আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মাকেটের দোকান মালিক সমিতির কোন পদে নেই।’

আপনি ২০১৯ সালে শাহ আমানত সিটি করপোরেশন সুপার মাকেটের দোকান মালিক সমবায় সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়ে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১৭ সালেও একই পদে নিবাচন করে জয়ী হয়েছেন। এরপরও কীভাবে বলছেন দোকান মালিক সমিতির কোন পদে নেই, প্রশ্ন করা হলে সৈয়দুল আলম বলেন, ‘আমার পরিবর্তে এখন সুমন নামের একজন দায়িত্ব পালন করছেন৷’
সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সৈয়দুল আলম বলেন, ‘ব্যাংকের অভ্যন্তরের একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করেছেন। কিন্তু তারা প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেননি যে, আমি কার কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছি, কী অনিয়ম করেছি। অবশ্য পরে আবার অভিযোগগুলো তদন্ত করে ঢাকায় রিপোর্ট দিয়েছে তদন্ত কমিটি।’
তদন্ত কমিটির সদস্যরা আপনার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন- এ প্রসঙ্গটি তুলতেই সৈয়দুল আলম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি নিজেদের মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশও করেছেন। তবে আমারও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আছে।’
গত ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালী থানায় তার (সৈয়দুল আলম) বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি এবং পুলিশের এসআই নয়ন বড়ুয়ার সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে সৈয়দুল আলম বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন সেখানে ছিলাম না। পুলিশের সাথে আমি নই, দুর্ব্যবহার করেছেন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন।’
