বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

চট্টগ্রাম শহরে একসময় জনসভার মাইকিং করতেন তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ Saturday, May 14, 2022, 2:09 pm


ঢাকা : স্কুল জীবনেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছিলেন ড. হাছান মাহমুদ। সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে তৃণমূলের এ নেতা এখন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। পাশাপাশি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবেও যোগ্যতা, দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।

শুক্রবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর তোপখানা রোডে ‘চট্টগ্রাম সমিতি ভবনে’ চট্টগ্রাম সমিতি আয়োজিত সম্মাননা অনুষ্ঠানে রাজনীতিতে নিজের উঠে আসার গল্প বলেছেন ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘স্কুলে আমার ছাত্র রাজনীতির শুরু। কলেজে ছিলাম ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন প্রথম-দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তখন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের কোনো জনসভা হলে আমি মাইকিং করতাম। এখন তো সভা-সমাবেশে উপলক্ষে মাইকিং হয় না। কিন্তু তখন সারা শহরে মাইকিং হতো। আমি মাইকিং করা একজন কর্মী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন রাষ্ট্রের মাইক আমার হাতে দিয়ে দিয়েছেন।’

ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম শহরের জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন ড. হাছান মাহমুদ। ১৯৭৮ সালের শেষার্ধে চট্টগ্রাম সরকারী ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম সমিতিকে ঢাকার বুকে একখণ্ড চট্টগ্রাম উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এই সমিতি প্রতি বছর মেজবান আয়োজন করে, পাশাপাশি তাদের আহ্বান জানাবো, তারা যেন প্রতি বছর ঐতিহাসিক বলী খেলারও আয়োজন করে। কারণ ঐতিহ্য আমাদের বড় ঐশ্বর্য। সেই সাথে দেশের সকল পত্রিকায় ছোটদের জন্য বিশেষ পাতার গুরুত্ব বৃদ্ধিও শিশু-কিশোরদের বিকাশে অত্যন্ত জরুরি।’

‘ঢাকার বাইরেও যে বাংলাদেশ আছে এটা অনেকে ভাবতে পারেন না। আমি সরকারের মধ্যে আছি, বিষয়টা অনুধাবন করতে পারি। যখন উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়, দেখা যায় চট্টগ্রামে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মতো বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়, বিভাগীয় শহর আর চট্টগ্রাম তো এক কথা নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ধারণা আছে, কিন্তু সরকারের অনেকেরই সেই ধারণা নেই।’

এসময় রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের পাঁচ গুণীজনকে (২০২২ সালে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, ২০২১ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি বিমল গুহ, কবি আসাদ মান্নান এবং কবি ও সাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী) চট্টগ্রাম সমিতির পক্ষ থেকে সম্মাননা তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে গুণীজনদের সাথে নিয়ে চট্টগ্রামের প্র‍য়াত লেখক আহমদ মমতাজের লেখা ‘আবহমান চট্টগ্রাম : কবি- সাহিত্যিক ও তাঁদের সাহিত্যকর্ম’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।