মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ কাঁদলেন, বললেন ‘আমি বড় একা হয়ে গেছি’

প্রকাশিতঃ Saturday, May 14, 2022, 9:02 pm


চট্টগ্রাম : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আমি বড় একা হয়ে গেছি। আমার সঙ্গীরা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে চিরতরে।’

শনিবার দুপুরে নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলার সময় কেঁদে ফেলেন প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা।

স্মৃতিচারণ করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে চাই, আমার সাথে রাজনীতি করেছিল, যারা রাজপথে ছিলো, আমার বন্ধু আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, কায়ছার অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। তারা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি বড্ড একা হয়ে গেছি। একা পড়ে আছি। একসাথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, রাজপথে ছিলাম। বিভিন্ন সময় একসাথে চলাফেরা করেছি। বহু স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলেন তখন দেশের রাজনৈতিক মোড় ঘুরে গেল। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন স্থানে জনসভা করছি। আপনাদের মনে আছে দুটি জনসমাবেশের কথা। যখন ড. কামাল হোসেনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দেয়া হলো তখন তিনি বললেন আমি আউটার স্টেডিয়ামে সমাবেশ করবো। আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা দেখেছি। যখন আমরা জনসভার ভেন্যু ঠিক করলাম তার ঠিক বিপরীতে বিএনপি অফিস ছিল। আমাকে তৎকালীন ডিসি ফারুক বললো আমরা আপনাদের অনুমতি দিলেও এখানে জনসভা করতে সরকারের নিষেধ আছে। আমি সেটি মানি নাই এবং প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি সে কথা। তিনি আমাকে বললেন, আপনি অনুমতি পেয়েছেন এবং আমি আউটার স্টেডিয়ামেই জনসভা করব। আপনাদের স্মরণ আছে সেদিন লক্ষ মানুষের সামনে জনসভায় তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন।’

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘আরেকটি ঘটনা মনে পড়ে, তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন যে ১৯৮৮ সালে এরশাদের আমলে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে তিনি লালদীঘি ময়দানে জনসভা করবেন। এ লালদিঘি ময়দানে জনসভার অনুমতি আমি পেয়েছিলাম। অনুমতি পেয়ে আমরা সেখানে ভেন্যু ঠিক করি। কিন্তু আবারও তৎকালীন ডিসি-এসপিরা আমাকে জানালো আপনারা এখানে জনসভা করতে পারবেন না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা দেখেছি আমি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা বললেন আমি লালদিঘি ময়দানেই জনসভা করব। তখন লক্ষ লক্ষ জনসমাগম হলো। স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ গুলি চালালো এবং সেদিন ২৪ জন শহীদ হলো। আমি এবং দক্ষিণ জেলার সুলতান মাহমুদ চৌধুরীসহ আমাদেরকে গুলি করে পুলিশ নালায় ফেলে দিলো। এ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে আমিও এখন শেষের দিকে। আমার বন্ধু আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, কায়ছার আজ আমার পাশে নেই।’

আজকের প্রতিনিধি সভা অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দক্ষিণ জেলায় ছয়টি আসন রয়েছে। আগামীতে এসব আসনে প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন আপনারা তাকে বিজয়ী করে আনবেন। এটি আমার অনুরোধ। জয়ী করে আনতে পারবেন তখন যখন আপনারা তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারবেন। প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী কমিটি করবেন এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগকেও বলবেন। ভোট আসলে প্রার্থীকে নিয়ে ঘরে ঘরে যাবেন। আদবের সহিত ভোট চাইবেন। আমি ৯ বার ইলেকশন করে ৭ বার এমপি হয়েছি। ২ বার হইনি অন্যান্য কারণে। তাও সামান্য ভোটে হেরেছিলাম। ভোটে জেতার একমাত্র কৌশল হলো সম্মানের সহিত, আদবের সহিত মা-বোনের কাছে ভোট চেয়েছি।’

সরকাররে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কাজ করেছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা দিয়েছি। সারা দেশ আলোকিত হয়েছে। বিদ্যুৎ শতভাগ হয়েছে। এগুলো শেখ হাসিনার অবদান। খালেদার পুত্র তারেক জিয়া খাম্বা বিক্রি করে খেয়েছে। আজকে খাম্বা নেই। সারা দেশ আলোকিত। শেখ হাসিনার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আছে, বিধায় আজ দেশ উন্নয়নশীল হয়েছে। উন্নতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘উত্তর জেলায় আমরা সবসময় সংসদ সদস্য বেশি পাই না। দক্ষিণ জেলা সেটি পায়। আপনারা শক্তিশালী সংগঠন করবেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, জেলা এভাবে পর্যাক্রমে কমিটি করবেন। ভোটের মাধ্যমে প্রতিটি পর্যায়ে উত্তর জেলায় নেতা নির্বাচন হয়েছে।’ যোগ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ প্রধান বক্তা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিশেষ অতিথি এবং আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ধর্ম সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সংসদের চীপ হুইপ আবু সাঈদ মাহমুদ স্বপন ও সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়েশা খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।