মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

পটিয়া আ.লীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন উপজেলা চেয়ারম্যান!

প্রকাশিতঃ ১৮ মে ২০২২ | ১২:১৩ অপরাহ্ন

পটিয়া (চট্টগ্রাম) : নৌকার বিরোধিতাকারী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং রহস্যজনক ভূমিকা পালন করার অভিযোগ তুলে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোদগার করেছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এম মোতাহেরুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, আগামিতে বিদ্রোহী দমনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও ঘোষণা দেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ মে) পটিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ছনহরা ইউনিয়ন পরিষদের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশীদ রাসেলের মনোনয়ন জমাদান-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার প্রার্থী রাসেলসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অতীতে নৌকার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এই দুই নেতা কোনো ব্যবস্থা নেননি জানিয়ে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আপনারা ৩৬৫ দিন আওয়ামী লীগ করবেন, পদপদবী ব্যবহার করে নানা সুবিধা ভোগ করবেন- আর নির্বাচন এলে নৌকার বিরুদ্ধাচারণ করবেন। বার বার এর পুনরাবৃত্তি ল তা মেনে নেওয়া যায় না।

এজন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন সামনাসামনি জানতে চান এবং এক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা রহস্যজনক বলেও মন্তব্য করেন উপজেলা চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, অগোচরে নয়, আমি যা বলি সামনাসামনিই বলি। আগামীতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে উল্টো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন মোতাহেরুল ইসলাম। এসময় সমস্বরে হাত উচিয়ে সমর্থন দেওয়া নেতাকর্মীদেরকে তার সঙ্গে থাকবেন কিনা জানতে চান মোতাহেরুল ইসলাম।

এই পরিস্থিতিতে সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান কিছু বলার চেষ্টা করলেও নীরব ছিলেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। এর মধ্যদিয়ে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগে ফের প্রকাশ্য বিভাজন তৈরি হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সচেতনরা। তারা বলছেন, এই পরিস্থিতির দায়ভার স্থানীয় সাংসদ হুইপ সামশুল হক চৌধুরীও এড়াতে পারেন না। তিনি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। নেতারা একে অপরকে মানছেন না। জড়িয়ে পড়ছেন বিষোদগারে, অশ্রদ্ধাবোধে। আর এটি হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণহীনতা ও ব্যর্থতারই পরিচায়ক বলে মনে করছেন পটিয়ার সচেতন রাজনৈতিক মহল।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা নই, বরং তিনিই (এম মোতাহেরুল ইসলাম) বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে মিটিং করেছেন। কথা বলছেন। আমরা কারও সাথে এরকম কিছু করিনি। কোন ছবি কেউ দেখাতে পারবে না। আমরা সভাপতি-সম্পাদক বরাবরই দলের পক্ষে। ইতিপূর্বে আমরা পটিয়ায় ১৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিস্কার করেছি। তিনি গতকাল নমিনেশন দেওয়ার পর মিটিং এ এসে আমাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে গেছেন।’

শামসুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ এক ও ঐক্যবদ্ধ আছি। কেউ বলতে পারবে না আমরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দিয়েছি। বরং যারা বিদ্রোহী তাদের নাম ও পূর্ণাঙ্গ সবকিছু জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছি। সেসব জেলা নেতৃবৃন্দ অবগত আছেন। তিনি যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তি ও বানোয়াট। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন? আমিও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এখানে সবকিছু প্রমাণ আছে। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। কোন প্রার্থী বিদ্রোহী হলে বা কেউ বিদ্রোহীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পেলে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ লাগবে। তা না হলে কি ব্যবস্থা নেয়া যায়?’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে গোলযোগের কারণে পটিয়া উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সেই দুই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ভোটের ফলাফলে ব্যাপক আবদুর রশিদ দৌলতিকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা সামশুল আলম আলমদার। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণের কয়েকদিন পরই মারা যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সামশুল আলম আলমদার।

জানা যায়, শূন্য হওয়া সেই ইউনিয়নে আগামী ১৫ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত ১৩ মে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রয়াত চেয়ারম্যান সামশুল আলম আলমদারের সন্তান ছনহরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ রাসেলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়ন জমাদানের শেষদিন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে মনোনয়ন জমা দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুনুর রশীদ রাসেল।

অন্যদিকে গত সোমবার বিকেলে ছনহরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রশিদ দৌলতীর পক্ষে তার সমর্থকেরা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরাফাত আল হোসাইনীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এছাড়াও জাহিদুল ও সাহাব উদ্দিন নামের আরও দুইজন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার যাচাই বাছাই ও ২৬ মে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন এবং ১৫ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।