মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

রেডিসনে কক্ষ ভাড়া নিয়ে নাইমকে ঘিরে আছে পদপ্রত্যাশীরা

প্রকাশিতঃ ২৪ মে ২০২২ | ৫:৫৭ অপরাহ্ন

একুশে প্রতিবেদক : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাইম (সম্মেলন উপলক্ষে উত্তর ও দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত) চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লুতে এসে উঠেন রোববার (২২ মে) বিকেলে। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত রেডিসন ব্লুতে থাকবেন তিনি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, নাইমের আশপাশে কক্ষ ভাড়া নিতে একশ্রেণীর পদপ্রত্যাশীর মাঝে রীতিমতো প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও নাইমের আশপাশে কক্ষ ভাড়া না পেলেও নিকট দূরত্বে পদ-প্রত্যাশী কেউ কেউ কক্ষ ভাড়া নিতে সক্ষম হন।

এছাড়াও পাশে না হোক, একটু দূরে হলেও রেডিসনে কক্ষ ভাড়ার জন্য লাইন ধরেছেন বেশ কয়েকজন পদ-প্রত্যাশী। প্রয়োজনে দ্বিগুণ, তিনগুণ ভাড়া দিয়েও তারা হোটেল রেডিসনের যে কোনো কক্ষ ভাড়া পেতে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু কক্ষ খালি না থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষ অপারগতা প্রকাশ করছে।

রেডিসন সূত্রে জানা গেছে, শেখ ফজলে নাইমের কক্ষ নম্বর ৮২২। যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগের কক্ষ নম্বর ৮০৩। ৮০৪ ও ৮০৯ নম্বরের কক্ষ দুটিও সোহাগের নামে বরাদ্দ করা আছে।

ধারণা করা হচ্ছে, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের জন্য কক্ষ দুটি আগাম ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার (২৭ মে) তারা সম্মেলন উপলক্ষে চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, সোহাগের পাশের কক্ষ ভাড়া নিয়েছেন এনামুল হক নামের একজন। তার কক্ষ নম্বর ৮০২। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ফজলে রাব্বী সুজন ৮০৮ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নিয়েছেন; যেটি যুবলীগের শীর্ষ দুই নেতা পরশ-নিখিলের জন্য ভাড়া নেওয়া কক্ষের পাশাপাশি।

ফজলে নাইমের পাশাপাশি ৮২০ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়ে মাসুদ আলম নামের একজন পদপ্রত্যাশী রোববার থেকে সেখানে অবস্থান শুরু করেছেন। আগামী ২ জুন পর্যন্ত কক্ষটির বুকিং দিয়েছেন তিনি। এছাড়া মহানগর যুবলীগে সদস্য পদ প্রত্যাশী ফারুক আহমেদ অপু নামে এক যুবক ১৫০৫ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নিয়েছেন। ফারুক আহমেদ অপু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ছাবের আহমেদ সওদাগরের ছেলে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, যারা কক্ষ ভাড়া নিতে পারেননি তারা ফজলে রাব্বী সুজন, মাসুদ আলম, এনামুল হক ও ফারুক আহমেদ অপুর কক্ষে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাইমের সাহচর্য, সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি লবিতে নামলে, নাশতা করতে গেলে সেখানেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পদপ্রত্যাশীরা। কেউ কেউ সম্পর্কের কারণে সরাসরি নাইমের কক্ষে গিয়ে দেখা করছেন, নিজের আগ্রহ ও প্রার্থিতার কথা বলছেন। ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছেন। এতে নাইম কখনো কখনো বিরক্ত হচ্ছেন, অস্বস্তিতে ভুগছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেডিসনের ৮২০ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়া মাসুদ আলম পূর্ব বাকলিয়ার সন্তান। গত বছরের জুন মাসে একটি কবরস্থান দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিত মাসুদ আলম এই ঘটনায় ঢাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। গ্রেফতারের সময় ওই কক্ষে নওশাদ মাহমুদ রানাও ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, রেডিসনে কক্ষ ভাড়া নিয়ে টাকা উড়ানোয় ব্যস্ত মাসুদ আলমের কক্ষে আরেক পদপ্রত্যাশী নুরুল আজিম রনিকে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতে দেখা যাচ্ছে। সেই কক্ষে আসা-যাওয়ার মাধ্যমে রনি নাইমের সাহচর্য লাভের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এমনকি নাইম লবিতে নামলে বা ক্ষণিকের জন্য বাইরে বেরুলে পিছু নিচ্ছেন রনি। পাশে থেকে জনজট সরানোর কাজও করতে দেখা যাচ্ছে রনিকে।

রেডিসনে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে জানতে মঙ্গলবার বিকেলে ফারুক আহমেদ অপুকে ফোন করা হয়। ফোন রিসিভ করে একুশে পত্রিকার পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্বস্তিতে একটু বিশ্রাম নেবেন সেই সুযোগও নেই। হোটেলের ভেতরে-বাইরে নাইমের চারপাশ ঘিরে ধরেছেন পদপ্রত্যাশী অতি উৎসাহীরা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করলেও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাইম ফোন ধরেননি।