মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

পাট এখন সবচেয়ে বেশি ‘ভ্যালু অ্যাডেড’ পণ্য : রাঙ্গুনিয়ায় পাটমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ২৪ মে ২০২২ | ৭:২৩ অপরাহ্ন


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : পাট এখন দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। মঙ্গলবার (২৪ মে) রাঙ্গুনিয়ায় কেএফডি জুট মিলস লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, কৃষক যখন একেকটি পাটগাছ রোপণ করে, সেগুলো শুধু একেকটি পাটগাছ নয়, সেগুলো একেকটি ডলার। পাট এখন আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য। যত পাটপণ্য রফতানি হবে, তত মার্কিন ডলার দেশে আসবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের কেএফডি জুট মিলসের উৎপাদিত পাটপণ্য রপ্তানির শুরুর মাধ্যমে পাটখাত আবার পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এসব মিলে নতুন করে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পাটমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের কেএফডি জুট মিলস লিমিটেডকে ইউনিটেক্স জুট ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে ভাড়াভিত্তিক ইজারা দেওয়া হয়। কেএফডি জুট মিলটি বর্তমানে চারশ শ্রমিকের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ১০টন পাটপণ্য উৎপাদন করছে। ইউনিটেক্স জুট ইন্ড্রাস্ট্রিজ এ পর্যন্ত ১৩০ টন পাটজাতপণ্য ভিয়েতনাম, তিউনিসিয়া ও চীনে রপ্তানি করছে। এছাড়াও প্রায় ৬০০ টন পাটপণ্যের অর্ডার শিপমেন্টের অপেক্ষায় আছে।ইউনিটেক্স জুট ইন্ডাস্ট্রিজ আরও দুটি উৎপাদন ইউনিট আধুনিকায়নের মাধ্যমে চালু করতে যাচ্ছে। ফলে প্রচলিত ও বহুমুখী পাটপণ্য মিলে দৈনিক গড়ে একশ টন পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আশা করছি, এখানে ৩৫০০ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, নরসিংদীর বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেড ভাড়াভিত্তিক ইজারা দেওয়া হয়েছে। মিলটিতে এরই মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়াও খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিলস লিমিটেড ও চট্টগ্রামের হাফিজ জুট মিলস লিমিটেড লিজ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও ১৩টি জুটমিলের জন্য দ্বিতীয় ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ১৮টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রস্তাবসমূহ দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশা করছি, এ পর্যায়ে আরও কয়েকটি মিল ভাড়াভিত্তিক লিজ দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে একদিকে যেমন পাটপণ্যের উৎপাদ বাড়বে, অন্যদিকে এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় বাড়বে। নতুন করে এসব মিলে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে ও এ ক্ষেত্রে অবসানকারী শ্রমিকরা অগ্রাধিকার পাবেন।

এসময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বস্ত্র ও পাট সচিব মো. আব্দুর রউফসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।