মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

অনেক হয়েছে এবার থামুন : বদিকে সোহাগ

প্রকাশিতঃ ২৮ মে ২০২২ | ৩:০৮ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক: দীর্ঘ বক্তব্য ও দলকে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করায় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলমকে থামালেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ। এসময় বক্তব্য দীর্ঘায়িত না করে মঞ্চ ত্যাগ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয় বদিকে।

শনিবার (২৮ মে) পটিয়ার আদর্শ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে।

সকাল ১১ টা নাগাদ শুরু হওয়া সম্মেলনে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলমকে আহ্বান জানান সঞ্চালক পার্থ সারথি চৌধুরী।

এসময় তিনি নিজের ত্যাগ-তিতিক্ষার ফিরিস্তি তুলে ধরে আত্মগীতি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে মুখ ফসকে বেশ কিছু বেফাঁস মন্তব্য করেন বদি। দেলোয়ার হোসেন সাঈদী বিরোধী আন্দোলনে তিনি এবং আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ছাড়া কোনো মন্ত্রী-এমপিকে পাশে না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন বদি।

এসময় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় না থাকায় পটিয়ার এমপির উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বদি বলেন, ‘আপনি যখন এসেছিলেন তখন আওয়ামী লীগের অফিস ছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোনো অফিস নাই, ঠিকানা নাই। আমি এমপিকে বলতে চাই, আমার দল আওয়ামী লীগ আজকে জামায়াত-বিএনপি, জাতীয় পার্টি দখল করেছে। হাইব্রিডমুক্ত আওয়ামী লীগ আমরা চাই।’

পটিয়ার এমপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালে আমাদের রক্তে-শ্রমে, ত্যাগে-কষ্টে, মানুষের হাতে পায়ে ধরে তিল তিল করে আমরা যে ভোট নিয়েছিলাম সেই আওয়ামী লীগ আজ বিচ্ছিন্ন। সেই আওয়ামী লীগ আজ এক জায়গায় নাই। এক ডিউ লেটারে ১৪টা ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এক রাতে ১৭টা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। আমি বলতে চাই তৃণমূলে হাত দেওয়া যাবে না।’

এ সময় একবার মৌখিক ও একবার লিখিতভাবে বদিকে বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দিলেও তিনি তা উপেক্ষা করে বক্তব্য অব্যাহত রাখেন। পরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ তার আসন থেকে উঠে এসে বদিকে থামতে বলেন। এসময় সোহাগ বলেন, অনেক হয়েছে এবার থামুন। সোহাগের অনুরোধের পরও বদিউল আলম তার বক্তব্য চালিয়ে যান। পরে বিরক্ত হয়ে সাইফুর রহমান সোহাগ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।

সম্মেলনের সঞ্চালক পার্থ সারথি চৌধুরী বক্তব্য ছোট করার জন্য যুবলীগ চেয়ারম্যানের নির্দেশের কথা বদিকে জানালে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান বলছে? আমাকে বলতে দিন প্লিজ। একটু বলতে দিন। বলেই তিনি তার বক্তব্য চালিয়ে যান। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য অতিথিদেরও বিরক্ত হতে দেখা যায়।

বক্তব্যের একপর্যায়ে বদি নিজেকে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র বলে জানিয়ে ডায়াসে সজোরে থাপ্পড় মারেন। এ সময় স্লোগান দেয়া কর্মীদের উপর ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘স্টপ, ডোন্ট সিনক্রিয়েট হেয়ার।’

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি। বিশেষ বক্তা ছিলেন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।