মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

কোন ক্রাইটেরিয়ায় শারুন মঞ্চে?

দক্ষিণ জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

প্রকাশিতঃ ২৮ মে ২০২২ | ৭:৫০ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : তিনি এমপি নন, মন্ত্রী নন, নন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কেউ। তবুও তিনি দক্ষিণ জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পুরো সময় জুড়ে মঞ্চে চেয়ার দখল করে বসেছিলেন।

বিষয়টি রাজনীতি-সচেতনদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে শুধু নয়, নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কোন ক্রাইটেরিয়ায় তিনি মঞ্চ দখল করলেন?

আর এই প্রশ্ন পটিয়ার সংসদ সদস্য ও সরকার দলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী-পুত্র নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে ঘিরে।

শনিবার (২৮ মে) দুপুরে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

এছাড়াও মঞ্চে শোভাবর্ধন করছিল কেন্দ্রীয় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগসহ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে। আর এদের মধ্যেই নিজ দায়িত্বে মঞ্চে গিয়ে বসেন শারুন।

মঞ্চে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতানের ঠিক পিছনেই বসেছিলেন তিনি। এসময় কখনো দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তৃতার সময় অন্যদের সাথে গল্পে মশগুল থেকেছেন, আবার কখনো নিজের ফোন টিপাটিপিতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পুরো বিষয়টাকে মোটেও ভালোভাবে নেননি রাজনীতি-সচেতনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলনে তার বাবা হুইপ সামশুল হক চৌধুরীকে অতিথি করা হলেও শারুনকে কোনো ধরনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনেকে বলছেন, বাবার ক্ষমতাবলেই তিনি মঞ্চে উঠেছেন। তবে রাজনীতি-সচেতনরা এই ঘটনার সমালোচনা করে বলছেন, ‘শারুন বাবার পদবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আমন্ত্রণ কিংবা আহ্বান ব্যতিরেকে সারাক্ষণ মঞ্চ দখল করে বসে থাকা ব্যক্তিত্ব ও রুচির পরিপন্থী। এটি দাওয়াত ছাড়া গায়ে পড়ে ভাত খেতে বসে পড়ার শামিল।’

এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার যুবলীগের কোনও পদ-পদবির প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই সম্মেলন আমাদের জন্য মান-সম্মানের বিষয়। তার চেয়ে বড় কথা আমার বাবা খুবই অসুস্থ। আমি যদি তার পাশে না থাকি এই অবস্থায় যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়! তাছাড়া আমি তো আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। সেই জায়গা থেকে আমি শুধু থাকতে পারি না নয়, অবশ্যই থাকতে পারি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সম্মেলন তদারকির দায়িত্বে ছিলাম। টিপু সুলতান, পার্থ সারথি চৌধুরী এবং শেখ নাঈমের সাথে আলোচনা করেই এটা (মঞ্চে আসনগ্রহণ) আমাকে করতে হয়েছে। কারণ এখানে যে পরিমাণ বিশৃঙ্খলা এবং স্থানীয় লোকজন তো কাউকে মানতে চায় না। আমরা যদি না থাকি সেগুলো সামলাবে কে? এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রামেও তো আমি মঞ্চে ছিলাম!’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা মোরশেদ চৌধুরীর আত্মহননের ঘটনায় নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। মোরশেদের আত্মহননের ‘প্ররোচনাদাতা’ হিসেবে শারুনকেও দায়ী করে আসছিলেন মোরশেদের স্ত্রী।

এছাড়া চট্টগ্রামের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব দিদারুল আলম চৌধুরীকে ‘থাপ্পড় মেরে দাঁত ফেলে দেওয়ার হুমকি’ দেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচিত হন শারুন।