মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

অভিযুক্তকে উলঙ্গ করে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ, লাঞ্ছিত করলো নারীকেও! (ভিডিও)

নেপথ্যে ক্ষমতাধর এসআই পুত্রের হাত

প্রকাশিতঃ ২৯ মে ২০২২ | ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আনোয়ারা বটতলী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাপমারা এলাকায় জায়গাজমির বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় অভিযুক্তকে উলঙ্গ করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৬ মে (বৃহস্পতিবার)।

এসময় অভিযুক্তের নারী আত্মীয়ের সাথে ধস্তাধস্তি ও তাকে হেনস্থাও করেছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. আরমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, আবুল কালাম ও নুর মোহাম্মদ সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। জায়গা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে আবুল কালাম তার পুলিশে চাকরিরত ছেলে বশিরুজ্জামান বশিরের ক্ষমতা দেখান সব সময়। বশির চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানায় পুলিশের উপ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

‘এসব বিষয় নিয়ে নুর মোহাম্মদ থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশের কাছে কোনও প্রকার প্রতিকার না পাওয়ায় গত ১১ মে চট্টগ্রাম আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন নুর মোহাম্মদ। অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পান আনোয়ারা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।’

‘এসব বিষয় আবুল কালামের ছেলে এসআই বশির জানার পর বৃহস্পতিবার সকালে নুর মোহাম্মদ ও তার পরিবারের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। নুর মোহাম্মদের মাথা ফাটিয়ে দিয়ে পুলিশ ছেলের রেফারেন্সে উল্টো আবুল কালাম থানায় যান পুলিশ আনতে। তার কথামতো পুলিশ এসে নুর মোহাম্মদকে উলঙ্গ করে আটকের পর থানায় নিয়ে যায়। এসময় তার ভাইসহ নারীদেরও মারধর করে পুলিশ। যা ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও স্পষ্ট লক্ষনীয়।’

শুধু তা নয়, নুর মোহাম্মদের বোন আনোয়ারা বেগম এসব বিষয়ে জানতে সেদিন থানায় গেলে তাকেও আটকে রাখে পুলিশ। সেই রাতে মামলা রেকর্ড করে পরদিন (শুক্রবার) ভাইবোনকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আর এসব কিছুই আবুল কালামের ছেলে এসআই বশিরের কথামতো করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সংক্রান্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আনোয়ারা বেগমের ছেলে হারুন উর রশীদ লিখেছেন,’আবুল কালামের ছেলে পুলিশ বশিরের নির্যাতনের শিকার পুরো পরিবার। আমার মাকে কেন মামলা দেওয়া হলো?’

এ বিষয়ে হারুন উর রশিদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, পুলিশ মারধর করে উলঙ্গ করে আমার মামা নুর মোহাম্মদকে থানায় নিয়ে যায়। আমার মামী খালাদের গায়ে পুলিশের পুরুষ সদস্যরা হাত দিয়েছে। তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। এরপর আমার মা (আনোয়ারা বেগম) তার ভাইকে কেন আটক করলো থানায় জিজ্ঞেস করতে গেলে তাকেও আটকে রেখে পরদিন শুক্রবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ভিডিওতে কালো টিশার্ট পড়া এসআই রফিক কীভাবে টেনে হেঁচড়ে উলঙ্গ করে আমার মামাকে (নুর মোহাম্মদ) নিয়ে গেছে দেখুন।-যোগ করেন হারুন।

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একজন এসআই (বশির) এত ক্ষমতাধর? তিনি চেয়েছেন বলে কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ এসে মাথাফাটা নিরীহ একজনকে নগ্নভাবে ধরে নিয়ে যাবে, একজন নিরপরাধ নারীকে থানায় আটকে রাখবে। তারপর মনের মাধুরী মিশিয়ে মামলা সাজিয়ে পরদিন সেই মামলায় আদালতে পাঠানোর ঘটনা নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন হারুন উর রশিদ।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার এসআই রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জায়গাজমির বিরোধে মামলা হয়েছে, তাই ধরে নিয়ে এসেছি। এসব বিষয়ে আপনি ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে ওসি এসএম দিদারুল ইসলাম সিকদারকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ভিডিও লিংক ওসির হোয়াটসঅ্যাপে দিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এদের নামে দুটি মামলা হয়েছে তাই পুলিশ ধরতে গেছে। এরা পুলিশের উপর আঘাত করেছে। পুলিশকে আঘাত করার এমন কোন দৃশ্যতো ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, এসব ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে না কিন্তু আমার দুই নারী পুলিশসহ চারজন আহত হয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালামের ছেলে ও পুলিশের এসআই বশিরুজ্জামান বশির একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি সামান্য একজন এসআই। এখানে আমার কোনও প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বাবা একজন বয়স্ক মানুষ, ওনি নিজেই থানায় গিয়ে ওদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব বলেছে। অথচ অভিযোগকারী নিজেরাই আমার নাম বিক্রি করে চলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবাকে এসবে সহযোগিতা করছেন আমার বোনের জামাই। ওনি চট্টগ্রামের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এখানে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।’