শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

সৈয়দ আবুল হোসেন ফিরছেন সগৌরবে, হতে পারেন টেকনোক্রেট মন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ২৭ জুন ২০২২ | ১২:১০ অপরাহ্ন

একুশে প্রতিবেদক : পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে সরকার ও দল থেকে ছিটকে পড়া বহুল আলোচিত সৈয়দ আবুল হোসেন ফের দল ও সরকারে ফিরছেন সগৌরবে। হতে পারেন টেকনোক্রেট মন্ত্রী। সেই সাথে আগামি ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডিয়ামেও অভিষেক হতে পারে আওয়ামী লীগের সাবেক এ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের। দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এই আভাস পাওয়া গেছে।

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের দুদিন আগে এই উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে ‘সৈয়দ আবুল হোসেন ইস্যু’ প্রথম তুলে আনেন এক সাংবাদিক। তিনি জানতে চান মিথ্যা অভিযোগ ও অপবাদে যোগাযোগ মন্ত্রীর পদ থেকে সরতে বাধ্য হওয়া সৈয়দ আবুল হোসেনকে পুনরায় সরকার ও দলে ফেরানো হবে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী মৃদু হেসে বলেন, ‘সময়ই বলে দেবে।’

মূলত সেই ছোট্ট জবাব থেকেই যারা সেদিন টেলিভিশনে  প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন লাইভ দেখছিলেন তারা বুঝে নিয়েছেন সৈয়দ আবুল হোসেনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব।

এরপর শনিবার (২৫ জুন) পদ্মাসেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে সুধী সমাবেশের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহানুভূতি প্রকাশ করেন পদত্যাগী যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের প্রতিও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার পর্যায়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই অপবাদ সহ্য করেছেন আমার ছোটবোন শেখ রেহানা, তার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, আমার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, আমার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক যোগাযোগ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ কয়েকজন সহকর্মী। তারা চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছিলেন। আমি তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।’

বক্তব্য শেষে পদ্মা সেতুর ম্যুরাল ও উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনস্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজ থেকে ডেকে নেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে। এসময় সৈয়দ আবুল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর পাশে এসে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়ান। এর পরেই দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করছেন তিনি। এসময় আবুল হোসেনের গায়ে স্নেহের হাত বুলিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর মুনাজাত থেকে ম্যুরাল ও ফলক উন্মোচন পর্যন্ত আবুল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর পাশেই দেখা যায়। পুরোটা সময় তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল। আবুল হোসেন ছাড়াও সেখানে সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াও উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করেছিল যে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন একজন ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপবাদ নিয়ে সরকারি চাপের মুখে ২০১২ সালের ২৩ জুলাই আবুল হোসেন মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের আদালত তাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছিল। সেই সঙ্গে কানাডার নিম্ন আদালত আবুল হোসেনকে ইতিমধ্যে খালাস দেয়। তথ্যপ্রমাণ না থাকায় ২০১৩ সালে কানাডার মামলাটি বাতিল করা হয়েছিল।এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় যারা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তাদেরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্বব্যাংক। দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল, এই সেতু আর কখনোই হবে না। শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় সংকল্পে দেশীয় অর্থে প্রমত্তা পদ্মার উপর এই সেতু নির্মিত হলো, যা গত শনিবার সাধারণ জনগণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের হাজার বছরের সেরা ও সর্ববৃহৎ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার সক্ষমতা প্রমাণ, সেই সঙ্গে দেশিয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসার বান তৈরির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহানুভূতির শীর্ষে থাকা মানুষটি হলেন সৈয়দ আবুল হোসেন। অবশ্য এই সহানুভূতি আগেই উপলব্ধি করেছেন সহানুভূতিশীল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই বাস্তবতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভার মানুষ সৈয়দ আবুল হোসেনকে ফের পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এলো। তারই অংশ হিসেবে দলে ও সরকারে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন হতে যাচ্ছে সৈয়দ আবুল হোসেনের – এমন মত দিচ্ছে সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নির্ভরযোগ্য সূত্র।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ চারটি সাধারণ নির্বাচনে মাদারীপুর-৩ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০১২ সালে মিথ্যা অপবাদের শিকার হওয়ার পর দল ও সরকারের সব পদ হারান সৈয়দ আবুল হোসেন।