বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক

প্রকাশিতঃ ২৭ জুন ২০২২ | ৯:০৫ অপরাহ্ন


এস এম সাদ্দাম হোসাইন : অজস্র চ্যালেঞ্জ এবং ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। পদ্মা সেতু আর স্বপ্ন নয়। এই স্বপ্নকে সত্যি করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী যথার্থ বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু শুধু ইট, সিমেন্ট, ইস্পাত ও লোহার একটি অবকাঠামো নয়; এটি জাতির গর্ব, সম্মান ও যোগ্যতার প্রতীক।” এই সেতুর সাথে আমাদের আবেগ, সৃজনশীলতা, সাহস, সহনশীলতা ও অধ্যবসায় জড়িত।

এই পদ্মা সেতু সারা দেশের সঙ্গে সড়কপথে দখিনের যোগসূত্র স্থাপন করে দিয়েছে।

এর আগে ২০০১ সালের ৪ জুলাই পদ্মা সেতু নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামায়াত জোট। ধীরে ধীরে গতিহীন হয়ে পড়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পটি। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের ইশতেহারে পদ্মা সেতু নির্মাণের অঙ্গীকার করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই ফেব্রুয়ারি মাসে পদ্মা সেতুর জন্য ডিজাইন কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়া হয়। কনসালট্যান্ট সেপ্টেম্বর ২০১০-এ প্রাথমিক ডিজাইন সম্পন্ন করে এবং সেতু বিভাগ প্রিকোয়ালিফিকেশন দরপত্র আহ্বান করে। ২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তি করে সরকার। কিন্তু কথিত দুর্নীতির অভিযোগে অর্থায়ন থেকে পিছিয়ে যায় বিশ্বব্যাংক।

এ পরিস্থিতিতে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের আবেদন বিশ্বব্যাংক থেকে ফিরিয়ে নেয় সরকার। যদিও পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগ কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির মিথ‌্যা গল্প’ বানানোর নেপথ্যে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

কারণ পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। জাতীয় উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা থাকেন, তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশবিরোধী, এদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে আর কেউ এ ধরনের কাজ না করে।

তবে আশার কথা, ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্র। এ নিয়ে আজকে উচ্চ আদালতে রুলের ওপর শুনানি হয়েছে। উচ্চ আদালতও আজকে প্রশ্ন রেখেছেন, ষড়যন্ত্র না থাকলে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হল কেন?

যদিতও এত ষড়যন্ত্র, চাপ উপেক্ষা করে ২০১২-এর ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দেন, প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হবে। ২০১২ সালের ৪ জুলাই সংসদে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৮ জুলাই আবারও সংসদে দাঁড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ জাতির সামনে বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজে ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর অংশ দৃশ্যমান হয়। পরে একের পর এক ৪২টি পিলারের ওপর বসানো হয় ৪১টি স্প্যান। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ ৪১তম স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে বহুমুখী ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ কাঠামো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো এখনও শিল্পের দিক দিয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এই এলাকার বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পদ্মা সেতুর ফলে সবার আগে উপকার হবে এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর। কারণ পদ্মা সেতুর কল্যাণে ওইসব এলাকায় ব্যাপক আকারে শিল্পায়ন হবে।

শিল্প বিপ্লবের ফলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষের আয় বাড়বে এবং জীবন জীবিকায় পরিবর্তন আসবে। এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিশেষে বলতে চাই, স্বাধীনতার কবি যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তেমনি উন্নয়নের কবি দেশরত্ন শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে যেমনভাবে দেশ স্বাধীন হয়েছে, একইভাবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় বাস্তব রূপ নেওয়া পদ্মা সেতু বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান বাড়াবে

লেখক : সভাপতি, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।