শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ২৭ জুন ২০২২ | ৯:৫০ অপরাহ্ন


ঢাকা : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে ভালো। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অনেক দেশের চেয়েও ভালো বাংলাদেশ ।

সোমবার(২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আগামী ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন। এ সময় সভাপতিমণ্ডলির সদস্য শামসুল হক টুকু অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ পদ্মা সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলেছেন। আমি এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেতে চাই বাংলাদেশর মানবাধিকার অনেক ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো। কারণ আমি উল্লেখ করছি কিভাবে ভালে, আমাদের দেশে গুয়ানতানামো কারাগারের মতো একটি কারাগার নাই যেখানে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। আমাদের দেশে মা বাবার কাছ থেকে শিশুকে আলাদা করে দিনের পর দিন বছরের পর বছর রেখে দেওয়া হয়নি কোথাও। যেটি যুক্তরাষ্ট্রে রেখে দেওয়া হয়। যখন শিশুরা বড় হয়েছে তখন তারা তাদের মা বাবাকে চিনতে পারে নাই, কারণ তাদের আলাদা করে রেখে দেওয়া হয়ে ছিলো। আমাদের দেশে জর্জ ফ্লায়েডের মতো কিলিং হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৭ বছরে সাত হাজারের বেশী মানুষের পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।

ইউরোপের মানবাধিকারের প্রসঙ্গ তুলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রাসেলসের রাস্তায় গুলি করে বোমাবাজদেও হত্যা করা হয়েছে। আমাদের দেশে যখন এই ধরণের এনকাউন্টারে কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় তাহেল তখন নানা ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়। আমাদের দেশের মানবাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো। উনারা (বিএনপি) মানবাধিকারে কথা বলে ২০১৩,১৪,১৫ সালে মানুষকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই অনেক দেশের চেয়ে ভালো।

হাছান মাহমুদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা হয় প্রায়ই। আমি মূল্যস্ফীতির একটি পরিসংখ্যান এই মহান সংসদে উল্লেখ করতে চাই।

২০২২ সালে ভারতে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে ৭.৭৯ ভাগ, নেপালে ৭.৮৭ ভাগ, ১৩.৮ ভাগ, যুক্তরাষ্ট্রে ৮.৬ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৯.১ শতাংশ, জার্মানি ৭.৯ শতাংশ, রাশিয়ায় ১৭.১ শতাংশ, তুরস্কে ৭৩.৫ শতাংশ, কানায়ায় ৬.৮ শতাংশ, নেদারল্যান্ডে ৯.৬ শতাংশ আর বাংলাদেশে গত ১২ মাসে মে মাস পর্যন্ত ৫.৯৯ শতাংশ। আর নিত্য পণ্যের দাম সমন্ত পৃথিবীতে বেড়ে করোনা এবং করোনার পর পরই ইউক্রেন এবং রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে।

কয়েকটি পণ্যের মূল্যের হিসাব আশেপাশের দেশের সাথে এই মহান সংসদে উপস্থাপন করছি। বাংলাদেশ মোটা চালের মূল্য হচ্ছে ৪০-৪২ টাকা। যেখানে ভারতে হচ্ছে ৫৯ থেকে ৬৫ রুপি, পাকিস্তানে ৭৭ থেকে ১২৫ রুপি, নেপালে ১০৫ থেকে ১২৫ রুপি, শ্রীলংকায় ২১৬ রুপি। মসুর ডালের দাম বাংলাদেশে ৯৫ বা ১০০ টাকা কোজি। ভারতে সেটি ভারতীয় রুপিতে ৯৭ থেকে ১০২টাকা, সেটি বাংলাদেশের টাকায় ১১০ টাকার উপরে, ১০-১৫ টাকা। পাকিস্তান ১০২ থেকে ১০১২ রুপি, নেপালে ১৭৫ থেকে ১৮০ রুপি, শ্রীলংকায় ১২৬ রুপি।

সয়াবিন তেল যেটি নিয়ে অনেক কথা হয়। সেটি বাংলাদেশে আজকের বাজার ১৮০ টাকা। ভারতে ১৮০ থেকে ২৫০ রুপি, পাকিস্তানে ৬০৫ রুপি। নেপালে ৩২০ থেকে ৩৭০ রুপি, শ্রীলংকায় ৮৪০ থেকে ৮৮০ রুপি। যারা দ্রব্যমূল্যের হিসাব দেন তাদের আশেপাশে দেশের দ্রব্যমূল্যের দিকে তাকাতে বলি।