হজে পাঠানো নিয়ে প্রতারণা, হার্ডলাইনে মন্ত্রণালয়


ঢাকা : পবিত্র হজকে কেন্দ্র করে প্রতিবার অনেক মানুষ প্রতারণা শিকার হন। এবারও প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। অনুমোদন না থাকা একাধিক এজেন্সির কাছে প্রতারণার শিকার হয়ে এসব মানুষ হারিয়েছেন কোটি কোাটি টাকা। এমন কাজে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সোমবার (৪ জুলাই) মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা তুলে ধরে তদন্ত সাপেক্ষে এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ডিজিএফআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠিও দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখার উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীনের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বারবার সতর্ক করার পরও প্রায় ৩০০ (এখন পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী) হজযাত্রীর সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে একটি অসাধু চক্র, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনিবন্ধিত বেনামি এজেন্সি (আল হেলাল এজেন্সি) এবং নিবন্ধিত এজেন্সি মারিয়া, আরবি ট্যুরস হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন না করেও হজে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কোটা পরিপূর্ণ হওয়ার পরও কতিপয় অসাধু চক্রের এমন অপতৎপরতা সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা ও সরকারের ভাবমূর্তির জন্য হানিকর। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবগত করে সতর্ক করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অসাধু চক্র/এজেন্সির বিরুদ্ধে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২১ ও দেশে প্রচলিত অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাধারণভাবে প্রতিবছর ২৫ লাখের বেশি লোক হজে যান। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি হানা দেওয়ার পর ২০১৯ সালে বিদেশ থেকে হজে যেতে কাউকে অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। ফলে দুই বছর শুধু সৌদি আরবের ৬০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে সীমিত পরিসরে পালিত হয় বিশ্বের মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক এই সম্মেলন। দুই বছর বন্ধ পর বিদেশিদের জন্য হজের দরজা খুলে দেওয়া হলেও সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়।

এবার প্রথম দফায় বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জনকে হজে যাওয়ার অনুমতি দেয় সৌদি সরকার। জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফায় অতিরিক্ত ২ হাজার ৪১৫ জন অতিরিক্ত পাঠানোর কোটা মঞ্জুর করে দেশটি।

এদিকে হজের ফ্লাইট শুরুর পর থেকেই নানা ধরণের অভিযোগ আসতে শুরু করে মন্ত্রণালয়ে। এরপর একে একে ২০টিরও বেশি এজেন্সিকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয়।