- রাজবল্লব দিঘী; এখানেই বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে শনিবার (১৭ জুলাই)।
জিন্নাত আয়ুব : চট্টগ্রামের পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বুধপুরা বাজার সংলগ্ন রাজবল্লব দিঘীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে।
আগামীকাল শনিবার (১৭ জুলাই) সেখানে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। মাছ ধরার কার্যক্রম চলবে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আর আসন নির্ধারণী লটারি হবে ভোররাত ৪টায়।
এতে অংশ নিতে আজ শুক্রবার মধ্যরাতে দিঘীর পাড়ে জড়ো হবেন বড়শি-জুয়াড়িরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কথিত বড়শি প্রতিযোগিতার আসন সংখ্যা হবে অর্ধশতাধিক। আয়োজকরা একুশে পত্রিকাকে জানিয়েছেন ইতিমধ্যে ৪২টি আসন বিক্রি হয়েছে ২১ লাখ টাকায়; প্রতিটি আসনের মূল্য ৫০ হাজার টাকা। অথচ রাজবল্লব দিঘীতে তেমন মাছ নেই।
বড়শি প্রতিযোগিতার নামে সেখানে মূলত জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কথিত প্রতিযোগিতায় যিনি সবচেয়ে বড় মাছ ধরতে পারবেন তাকে একটি পালসার মোটর সাইকেল দেওয়া হবে। দ্বিতীয় হলে মিলবে একটি ফ্রিজ। তৃতীয় হলে মিলবে ৫৫ ইঞ্চি এলইডি টিভি। চতুর্থ হলে পাওয়া যাবে ডীপ ফ্রিজ।
এছাড়া পঞ্চম হলে এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ৬ষ্ঠ হলে ওয়াশিং মেশিন, ৭ম হলে ইলেকট্রিক ওভেন, ৮ম হলে স্মার্টফোন, ৯ম হলে পেশারকুকার ও দশম হলে ডিনার সেট পাওয়া যাবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

‘পুরস্কার’ হিসেবে দশটি পণ্যই সাড়ে ৩ লাখ টাকার মধ্যে কেনা সম্ভব। তাহলে আয়োজকদের হাতে থাকছে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেবে সংঘবদ্ধ চক্রটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে সৌখিন মৎস্য শিকারীরা বিভিন্ন স্থানে বড়শি প্রতিযোগিতায় অংশ নিত, টিকিটের দামও কম ছিল, মাছও থাকতো পুকুরে, দিঘীতে। এখন বড়শি প্রতিযোগিতার আড়ালে স্রেফ ক্যাসিনো স্টাইলে জুয়া খেলা চলছে, পুকুরে মাছ বলতে নেই। যার কারণে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ছিপ ফেলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে একটি মাছও পান না বেশিরভাগ মানুষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কথিত বড়শি প্রতিযোগিতা পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আমি এখন স্যারের সামনে।’ এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির সদস্য মো. ইউসুফ বলেন, ‘এটা ভিআইপিদের জন্য আয়োজন। প্রতিটি সিট বিক্রি হয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে। এখন পর্যন্ত মোট ৪২টি সিট বিক্রি করা হয়েছে। আয়োজন সব শেষ। পুরস্কার সাজানোসহ প্যান্ডেলের কাজ শেষ। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হবে।’
প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার পুরস্কার দিয়ে প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে- এটা জুয়ার মধ্যে পড়ে কিনা- প্রশ্নে ইউসুফ বলেন, ‘এখানে অনেক হাইম্যান অতিথি থাকবে। এখন নাম প্রকাশ করছি না। আমরা আয়োজক কমিটি সব প্রকার প্রসেসিং শেষ করে এই আয়োজন করেছি।’ কোন ধরণের প্রসেসিং জানতে চাইলে ইউসুফ বলেন, ‘আগামীকাল আসেন, দেখে যান।’ এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
বড়শি প্রতিযোগিতার নামে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। আপনি ইউএনও সাহেবের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলুন। কিছু জানার থাকলে জেনে নিন।’
এরপর পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতিকুল মামুন বলেন, ‘আমি জানি, এরা ওই দিঘীতে মাছ ধরবে। কেডিএসের খলিল সাহেবও আসবেন। কিন্তু এতো আয়োজন তো জানি না। বিষয়টি আমি দেখছি।’
জানতে চাইলে পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি এইমাত্র অবগত হলাম। এটা তো প্রকাশ্যে জুয়া। আমি এখনই খবর নিচ্ছি। এটা হতে দেওয়া যাবে না। আমি বন্ধের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

