চট্টগ্রাম : রাঙ্গামাটিতে ১৫০ জন, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়াতে ২৭ জনসহ সারাদেশে পাহাড়ধসে দুইশ’রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে গত কয়েকদিনে। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণসংস্থা, নানা শ্রেণীপেশার মানুষ সম্মিলিত ও ব্যক্তিগতভাবে এই মানবিক বিপর্যয়ের পাশে যখন ছুটছে, তখনই ২০ টন চাল চাল নিয়ে রাউজানের নিজ এলাকায় ছুটে গেলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম।
শুক্রবার রাউজান পৌরসভা, হলদিয়া, চিকদাইর, ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ হাজার পরিবারের মাঝে এই চাল বিতরণ করেন তিনি। ঘূর্ণিঝড় মোরা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেখিয়ে তার এলাকার মানুষদের মাঝে নিজের গড়া আনোয়ারা-আলম ফাউন্ডেশনের ব্যানারে এই চাল বিতরণ করেছেন চেম্বার সভাপতি।
এসময় তিনি ইফতার মাহফিল পরিহার করে সেই অর্থ দিয়ে সবাইকে পাহাড়ধসে মানবিক বিপর্যয়ের শিকার মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এদিকে মাহবুবুল আলমের এই স্ববিরোধী অবস্থান ও ‘ত্রাণবিতরণ’ নিয়ে খোদ রাউজানেই সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, তিনি যদি মানবিক হয়ে থাকেন, দানের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে তার ত্রাণসামগ্রী পৌঁছার কথা পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের শিকার মানুষগুলোর কাছে।
সায়েম চৌধুরী নামের হলদিয়ার এক অধিবাসী বলেন, আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মাহবুবুল আলম সাহেবদের ত্রাণবিতরণের উদ্দেশ্য মানুষ কিংবা মানবিকতার পাশে দাঁড়ানো নয়, এর মধ্য দিয়ে নিজেই নিজের পাশে দাঁড়ানো। নিজের শক্তপোক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করা। কারণ তিনি নাকি আগামীতে রাউজানের এমপি হতে চান, পেতে চান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।
কাজেই এই ইচ্ছা, চাওয়া-পাওয়া সামনে রেখেই তাদের সব কাজ কারবার! মুখে মানবতার খই ফুটলেও তাদের সমস্ত মানবিকতা, উদারতা নিজের এলাকা, ইচ্ছা আর স্বপ্নপূরণের মাঝেই সীমাবদ্ধ।’
রাউজান পৌরসভা এলাকার এক লাইব্রেরিয়ান বলেন, ‘অদ্ভুত এক নেশা পেয়ে বসেছে একশ্রেণীর মানুষের মাঝে। ব্যবসায়ী, সওদাগর থেকে শুরু করে প্রায় সব সেক্টরে সামান্য একটু প্রতিষ্ঠিত হলেই, যে কোনোভাবে অর্থবৃত্তের মালিক হয়ে যেতে পারলে তারা এমপি-মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। আইনসভার সদস্য হওয়াটা যেন বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ কাজ!’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘রাউজান থেকে নির্বাচন করার কোন আগ্রহ আমার নেই। মানুষের উপকার করার জন্য আমি রাউজানে চাল বিতরণ করেছি।’ এরপরই ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দেন তিনি।
