শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

রাঙ্গুনিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, মায়ের দাবি হত্যা

প্রকাশিতঃ ৬ অগাস্ট ২০২২ | ২:৪৩ অপরাহ্ন


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মোহাম্মদ ইউসুফ (১৪) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ গাছের সাথে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার (৬ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় বলে একুশে পত্রিকাকে জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল ইসলাম।

এর আগে, শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ফকিরামোড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফ (১৪) একই এলাকার প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। সে কোদালা মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে আসছিল।

জানা যায়, গতকাল বিকেলে তার বাড়ির পাশেই একটি পাহাড়ে গাছের সাথে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে জানালে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে নিহত ইউসুফের মা কামরুন্নাহার একুশে পত্রিকাকে বলেন, এলাকার লোকজন বলছে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু সে আত্মহত্যা করেনি। তাকে আমার প্রতিবেশী শত্রুরাই হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে। যাতে আমার ছেলে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলা যায়।

তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে বাড়ি ভিটে নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল আমার চাচা শ্বশুরদের পরিবারের সাথে। আর সে চাচা শ্বশুরদের বাড়ির পেছনেই আমার ছেলের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। এর আগেও শত্রুরা আমার ঘরে ডাকাত ঢুকিয়ে দিয়েছিল।

কামরুন্নাহার বলেন, ৪-৫ মাস আগেও জায়গায় জমির বিরোধের জেরে আমাকে অসহায় পেয়ে মারধর করে চাচা শ্বশুরদের পরিবারের লোকজন। তখন আমাকে মাথায় আঘাত করায় ১২ টি সেলাই করতে হয় এবং ৮ দিন মেডিকেলে থাকতে হয়েছিল। সে সময় মামলা করলে তারা মামলা নামিয়ে ফেলার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এবং কৌশলে আমার কাছ থেকে সাক্ষর নিয়ে মামলা নামিয়েও ফেলেন এবং সে সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দেয় তারা। আর সে টাকা দেয়ার সময় তারা বলেছিল এই ৩০ হাজারের পরিবর্তে লাখ টাকার ক্ষতি করবে। এ বিষয়টি পুলিশকেও জানিয়েছি।

জানতে চাইলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ছেলেটা ঠিকমতো পড়ালেখা করছিল না এবং মাদ্রাসায়ও যাচ্ছিল না। তাই তার মা বকাবকি ও শাসন করলে ছেলেটা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আত্মহত্যা নিশ্চিত কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট না। তাই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলেই বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে আপাতত একটা অপমৃত্যু মামলা নেয়া হয়েছে।