বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

দুই রোহিঙ্গা নেতা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিতঃ ১১ অগাস্ট ২০২২ | ২:০১ অপরাহ্ন


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারে উখিয়ার বালুখালির জামতলী শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই রোহিঙ্গা নেতা হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে অভিযান ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে জামতলা ক্যাম্পের ৮ এপিবিএন পুলিশের সদস্যরা।

এরা হলেন- সাহ মিয়া (৩২), মো. সোয়াইব (১৯) ও জাফর আলম (৫৪)। গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১ টায় ৫ জনকে এজাহার নামীয় আসামি ও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামালা দায়ের করা হয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, জামতলি এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫ এর সি ব্লকের হেড মাঝি (ব্লকের নেতা) আবু তালেব (৫০) এবং সাবমাঝি সৈয়দ হোসেন (৪৩) এর নিহত হওয়ার ঘটনায় বাদীর দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। যার নম্বর ৫৩।

এজাহারনামীয় অভিযুক্তরা হলেন, জাফর আলমের ছেলে মাহামুদুল হাসান (২৭), মৃত সোনা আলীর ছেলে সাহ মিয়া(৩২) ও তার ভাই আবুল কালাম @ জাহিদ আলম (২৫), মৃত রশিদ আহম্মেদের ছেলে জাফর আলম (৫৪) ও তার ছেলে মো. সোয়াইব। এরা সকলেই জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আবু তালেব জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক সি এর মাঝি এবং সৈয়দ হোসেন সাব মাঝি। ৯ আগস্ট রাতে তারা প্রতিদিনের ন্যায় কাজকর্ম শেষে ব্লক-সি/৯ এর আছিয়া খাতুনের ঘরের সামনে বাঁশের মাচার উপর বসে ব্লকের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছিল। সেসময় রাত ১১ টা ৪০ মিনিটে এজাহার নামীয় আসামিসহ ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারী মুখে গামছা বেঁধে তাদেরকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। পরে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে আবু তালেবের গলায় দুটি এবং বুকের পাজরে ১ টি ও সাব-মাঝি সৈয়দ হোসেনের গলায় ১টি গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের মৃত্যু হয়।

পূর্ব শত্রুতার জেরে এই ডাবল মার্ডারের সাথে আবুল কাশেমের ছেলে সাব-মাঝি রেজাউল আলম (৪২), জাফর হোসেনের ছেলে সাব মাঝি মোঃ ইয়াছিন এবং ইসমাঈলের ছেলে (ভলেন্টিয়ার) নুর মোহাম্মদ (৩২) জড়িত রয়েছে বাদী সন্দেহ রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, গুলিবিদ্ধ আবু তালেব মৃত্যুর পূর্বে মাহমুদ হাসান ও জাফর আলমসহ আরও কয়েকজন মিলে তাদেরকে গুলি করেছে মর্মে নাম বলে গেছে। অভিযুক্তরা একসময় আরসার সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু এখন নবী হোসেনের হয়ে কাজ করেন বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান নিয়েছিল নিহত দুই রোহিঙ্গা মাঝি। এসব ইয়াবা টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করায় আলোচিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের গ্রুপের লোকজনই তাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছে।

অপর আরেকটি সূত্র বলছে, ইয়াবার লেনদেনের পাশাপাশি নিহতরা নবী হোসেনের কথা মতো চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এ ছাড়াও নিহতের বিরুদ্ধে আরসার সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে একাধিকবার তর্ক জড়িয়েছিল নবী হোসেন গ্রুপের লোকজন। এ জন্য নবী হোসেন তাদেরকে হত্যার নির্দেশ দেন।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের উপ-অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরান হোসেন বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করার পর বুধবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে নিরাপত্তায় ডি ব্লক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ইতিমধ্যে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।