বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

ভারতকে অনুরোধ করেছি শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ১৮ অগাস্ট ২০২২ | ১১:১৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার, তা করতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।

এদিকে এ উৎসবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নগরের চেরাগীপাহাড় মোড়ে কালো পতাকা মিছিল করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুটি সংগঠন।

এমন অবস্থায় চট্টগ্রামে এসে ভারত সফরের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার দেশে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু উগ্রবাদী আছে। আমার দেশ সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন না, আপনার দেশেও যেমন দুষ্ট লোক আছে, আমাদের দেশেও আছে। কিছুদিন আগে আপনাদের দেশেও এক ভদ্রমহিলা কিছু কথা বলেছিলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, আমরা বলিনি। এ ধরনের প্রটেকশন আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য। আমরা যদি একটু বলি, তখন উগ্রবাদীরা আরও সোচ্চার হয়ে আরও বেশি বেশি কথা বলবে। তাতে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হবে। আমাদের স্থিতিশীলতা বিঘ্ন হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতকে বলেছি, আমরা উভয়ে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডকে কখনও প্রশ্রয় দেব না। এটা যদি আমরা করতে পারি, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের মঙ্গল। শেখ হাসিনা আছেন বলে ভারতের যথেষ্ট মঙ্গল হচ্ছে। বর্ডারে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। ২৮ লাখ লোক আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ভারতে বেড়াতে যায়। ভারতের কয়েক লাখ লোক আমাদের দেশে কাজ করে। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সুন্দর অবস্থানের কারণে। সুতরাং আমরা উভয়ে এমনভাবে কাজ করব যাতে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। ভারত সরকারকে বলেছি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকবে যদি আমরা উভয়ে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেই।’

উস্কানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন কাজ করব না, ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমন কোনো উস্কানি দেব না, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশে কিছু মসজিদ পুড়েছে। আমরা কোনোভাবে সেটা প্রচার করতে দিইনি। এর কারণ হচ্ছে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু জঙ্গি আছে যারা এটার বাহানায় আরও অপকর্ম করবে। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। অনেকে আমাকে ভারতের দালাল বলে, কারণ অনেক কিছুই হয়, আমি স্ট্রং কোনো স্টেটমেন্ট দেই না।’

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা যেমন দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমাদের জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল ঠিক তেমনি এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং শেখ হাসিনাকে আমাদের ঠিকিয়ে রাখতে হবে। যদি এটি সম্ভব না হয় তবে সকলের জন্য বিপদ। সে বিপদ যাতে না হয় আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা যদি শেখ হাসিনাকে সুরক্ষিত রাখতে পারি তবেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারবো।

কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সভাপতি সুকুমার চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বাঁশখালী উপজেলার সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, এস কে সিকদার, চন্দন তালুকদার, দুলাল চন্দ্র দে, গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে, দুলাল চন্দ্র দে, শংকর সেন বক্তৃতা করেন।