চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের সময় চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরের কোতোয়ালী থানার লাভ লেইনের আবেদিন কলোনির বাসা থেকে ওই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার এরশাদ উল্লাহ (৩০) চট্টগ্রামের বাঁশখালির জলদি ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা একটি মোটর সাইকেল, একটি মোবাইল সেট, ৪৫টি লেডিজ ব্যাগ, ১৫টি লেডিজ ছাতা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নগরীর জামালখান এলাকায় গত ১৩ জুন মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা শিরিন আক্তার নামের ২৪ বছর বয়সী এক রিকশাআরোহী তরুণীর ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি পড়ে গিয়ে আহত হন। ছয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান শিরিন। ওই ঘটনার পর আসামিদের ধরতে কাজ শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনায় জড়িত এরশাদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ নিয়ে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন। অভিযানের বিষয়ে তিনি জানান, নিজের স্ত্রীকে কোরোসিন তেল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারার মামলায় কারাগারে যান আসামী এরশাদ। সাড়ে তিন বছর কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও ছিনতাইয়ের চারটি মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। যার ৩টি কোতোয়ালী থানায়। ২০১৬ সালের ১৯ জুন ছিনতাইকালে হাতে নাতে ধরা পড়ে এরশাদ।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরশাদ জানিয়েছে, ঘটনার দিন ১৩ জুন সন্ধ্যায় ইফতারির পর সে এবং এক সহযোগীকে নিয়ে মুরাদপুর থেকে ওয়াসা, টাইগারপাসসহ বিভিন্ন মোড় ঘুরে সুযোগ বুঝে জামালখানে ছিনতাই করে।
তিনি আরও বলেন, ছিনতাইয়ের সময় এরশাদ মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। জামালখানে উদয়ন স্কুলের সামনে চলন্ত রিকশায় বসা তরুণীর ব্যাগ টান দেয় মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এরশাদের সহযোগী। তারা ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরশাদের সহযোগীকে গ্রেফতারে পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
