বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

গৃহবধূকে ধর্ষণ করে দৃশ্য ধারণের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে

প্রকাশিতঃ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০:৪৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে দৃশ্য ধারণের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ১২ সেপ্টেম্বর তারিকুল ইসলাম রাজিব (৩০) নামের ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল তারিকুল ইসলাম রাজিব চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অধীনে আদালত ভবনের মালখানা শাখায় কর্মরত। রাজিব পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার রানিপুর এলাকার আবুল হোসেন মৃধার ছেলে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগী নারী ২০১৫ সালে একজনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর থেকে তারা নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। বিয়ের কয়েক বছর পর এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে পুলিশের কনস্টেবল তারিকুল ইসলাম রাজিবের সাথে ওই নারীর পরিচয় হয়। একসময় পুলিশের চাকরিতে চট্টগ্রামে বদলি হলে ওই নারীর সঙ্গে তাদের ফ্ল্যাটে সাবলেটে ভাড়া থাকতে শুরু করেন রাজিব।

পরবর্তীতে ওই নারীকে নানাভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন রাজিব। এছাড়া চাকরিতে প্রমোশন পেতে টাকা প্রয়োজন জানিয়ে রাজিব ওই নারীর কাছ থেকে কয়েক দফায় ১০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে নেয়।

চলতি বছরের ১ থেকে ৩ জুলাই ও ২৬ থেকে ২৮ জুলাই বিভিন্ন সময় বেশ কয়েকবার ওই নারীকে তাদের ফ্ল্যাটে ধর্ষণ করে রাজিব। আর গোপনে সেসব অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য নিজের ফোনে ধারণ করে রাখেন তিনি। পরে ওই নারী জানতে পেরে তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে রাজিব ধারণকৃত অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেয়। একের পর ব্ল্যাকমেইল করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

সর্বশেষ একই কায়দায় গত ৪ আগস্ট দুপুরে ওই নারীকে তাদের ভাড়া ফ্ল্যাটে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রাজিব। পরে ঘটনার কথা কাউকে জানালে মিথ্যা মামলায় ওই নারীর স্বামীকে ফাঁসানোর ও ধারণকৃত ছবি-ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

পরবর্তীতে রাজিবকে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ও পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২ এর ৮(১) ও ৮(২) ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেছেন ওই নারী। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর পিপি নিখিল কুমার নাথ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ইতিমধ্যে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন। আসামি রাজিব আদালত ভবনে মালখানা শাখায় কর্মরত আছেন। মামলার বাদীর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে তার দৃশ্য ধারণ করে ব্ল্যাইকমেইল করার হুমকি দিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।