বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

হাটহাজারীর এসি ল্যান্ডের ‘প্রতিবাদ’, একুশে পত্রিকার বক্তব্য

প্রকাশিতঃ ৪ অক্টোবর ২০২২ | ১০:০৯ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : “হাটহাজারী ভূমি অফিস: গালাগাল ও অপমান সইতে না পেরে মৃত্যু? (ভিডিও)” শিরোনামে একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসি ল্যান্ড) মো. আবু রায়হান।

যদিও ওই ‘প্রতিবাদলিপি’ একুশে পত্রিকার কাছে পাঠানো হয়নি; ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ২৮ মিনিটে ‘জার্নালিস্টস (হাটহাজারী)’ নামক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন এসি ল্যান্ড নিজেই; হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটিতে অ্যাডমিন হিসেবে আছেন হাটহাজারীর ইউএনও এবং এসি ল্যান্ড।

প্রতিবাদলিপিতে একুশে পত্রিকার একজন প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বলা হয়েছে, “একুশে পত্রিকার রিপোর্টার এম কে মনির বিভিন্ন কাজের তদবিরের জন্য বিভিন্ন সময় উপজেলা ভূমি অফিসে যাতায়াত করেন। উক্ত রিপোর্টারের বেআইনি তদবির না রাখায়, জেলা প্রশাসন ও রাজস্ব প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কু-মানসে প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে উক্ত বানোয়াট সংবাদ ও এডিটেড ভিডিও প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে তিনি ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য না নিয়ে খণ্ডিত, একপেশে ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করেন।”

এই মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে একুশে পত্রিকার বক্তব্য- মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য, একুশে পত্রিকার প্রতিবেদক এম কে মনিরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতিবাদলিপিতে এসব হাস্যকর অভিযোগ করে মিথ্যাচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ভূমি সংক্রান্ত তদবির দূরে থাক, হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে কোনদিন প্রবেশ পর্যন্ত করেননি এম কে মনির। এ সংক্রান্ত কোন প্রমাণ হাটহাজারী ভূমি অফিসের কেউ দেখাতে পারবেন না। এরপরও এমন মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, “ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য না নিয়ে খণ্ডিত, একপেশে ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।” অথচ “হাটহাজারী ভূমি অফিস: গালাগাল ও অপমান সইতে না পেরে মৃত্যু? (ভিডিও)” শীর্ষক প্রতিবেদনে হাটহাজারীর সহকারী কমিশনার-ভূমি (এসি ল্যান্ড) আবু রায়হান ও অভিযুক্ত বিজয় নন্দন বড়ুয়ার বক্তব্য উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, “ভাইরাল ভিডিওটি (দুর্ব্যবহারের সময় ধারণ করা) প্রায় দুই মাস আগের। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মোনাফের মৃত্যুর পর ২ অক্টোবর সংবাদ প্রচার করা দুঃখজনক, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে একুশে পত্রিকার বক্তব্য হচ্ছে, দুই মাস আগের ঘটনা নিয়ে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন না বা কোথাও বিচার চাইতে পারবেন না- এমন কোন আইন তো দেশে নেই। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে বা অপরাধ প্রমাণিত হলে ঘটনা যত আগেই ঘটুক না কেন, অভিযুক্তকে শাস্তি বা আইনের আওতায় নিয়ে আসার মতো ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত দেশে রয়েছে।

আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, অভিযোগ উঠেছে ভূমি অফিসের দুই কর্মচারীকে নিয়ে। অথচ প্রতিবাদ করছেন, অফিস প্রধান (এসি ল্যান্ড)।

মূলত প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রয়াত মোনাফের মেয়ে আইরিন আক্তার ও মিনু আক্তার অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, বিজয় নন্দন বড়ুয়া এবং নিউটন বড়ুয়া নামে দুই কর্মচারীর গালাগাল ও অপমানের ধকল সইতে না পেরে তার বাবা মোনাফ মারা গেছেন।

একই অভিযোগ ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবরও করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগের স্বপক্ষে (দুর্ব্যবহার করার) একটি ভিডিও একুশে পত্রিকার হাতে আসে। এতে দেখা যায়, বৃদ্ধ মোনাফের সাথে তুমুল বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত অফিস সহকারী বিজয় নন্দন বড়ুয়া ও নিউটন বড়ুয়া৷

এক্ষেত্রে তথ্য ও ভিডিও পাওয়ার পর সাংবাদিকতার রীতি অনুসরণ করে তা যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার পরই সংবাদটি প্রকাশ করেছে একুশে পত্রিকা।

২ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া হাটহাজারী ভূমি অফিস কেন্দ্রিক নানা অনিয়মের অভিযোগ পাঠকদের কাছ থেকে আসতে থাকে একুশে পত্রিকার কাছে।

এর মধ্যে ভূমি অফিসের একজন সামান্য বেতনের কর্মচারীর হাটহাজারী এলাকায় ৫০ লাখ টাকার বেশি খরচ করে বাড়ি নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্যও আছে।

এসব অভিযোগ যাচাই করে দেখছে একুশে পত্রিকা।