অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারকারী যুবলীগ নেতার হাতেই দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স!

farid-2চট্টগ্রাম: যিনি চট্টগ্রামে ক্যাডারভিত্তিক ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার বিরুদ্ধে অতীতে কথায় কথায় অস্ত্রপ্রদর্শন ও অস্ত্রের অপব্যবহারের অভিযোগ, সে-ই ফরিদ মাহমুদই পেয়েছেন একসাথে দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক থেকে বছরখানেকের ব্যবধানে এই দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স পান তিনি। অস্ত্র দুটির একটি হচ্ছে শটগান, অপরটি পিস্তল।

এদিকে, যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ একাই দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ায় রীতিমতো বিস্ময় তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামের সচেতন মহলে। প্রশ্ন উঠেছে, এরকম একজন মানুষ কী করে দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স পান!

একটু পেছনের কথা, গত বছর চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্যহানির জন্য দায়ী বিলবোর্ড অপসারণ করতে গেলে ফরিদ মাহমুদের সহযোগীর কাছে লাঞ্ছনার শিকার হন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট। এই সময় কোমর থেকে অস্ত্র বের করে হত্যার হুমকি দেয়ায় দল থেকে বহিস্কৃত হন ফরিদ মাহমুদ। যুবলীগের সেই বহিস্কৃত নেতার হাতেই দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স তুলে দেওয়ার দায়-দায়িত্ব চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনও এড়াতে পারে না বলে মনে করেন চট্টগ্রামের সচেতন মানুষ।

সচেতন মানুষ বলছেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার ইস্যুতে ফরিদ মাহমুদ গ্রুপ ও যুবলীগের আরেক নেতা মাসুম চৌধুরী গ্রুপের সঙ্গে অসংখ্যবার গোলাগুলি ও হতাহতের ভয়াবহ ঘটনা মনে করে এখনো আঁতকে উঠে টাইগারপাস, লালখানবাজার এলাকার মানুষ। পেশিশক্তির রাজনীতির মাধ্যমে গড়ে উঠা ভাবমূর্তির একজন মানুষ কোনোভাবেই সরকারি অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে পারেন না বলে মনে করেন তারা। তাও আবার একটি নয়, দুটি অস্ত্রের লাইসেন্স। প্রসঙ্গত যুবলীগের বিতর্কিত নেতা মাসুম চৌধুরীকেও একটি পিস্তলের লাইসেন্স দেয় জেলা প্রশাসন।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী রানাদাশ গুপ্ত বলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার যিনি করেন সে তিনিই সরকারি অস্ত্রের সদ্ব্যবহার করবেন সেটি আশা করার কোনো কারণ নেই। বরং দখলদারিত্ব আর পেশীশক্তির রাজনীতিতে লাইসেন্সধারী এই দুটি অস্ত্র বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এই অস্ত্র কারো জন্য হুমকি হলে, অবৈধ আহরণের হাতিয়ার হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সেই অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা উচিত।

সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ফৌজদারী মামলা আছে কিনা, অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড কতটা প্রশ্নবিদ্ধ এসব ভালোভাবে দেখা হয়। ফরিদ মাহমুদ কিংবা মাসুমের বেলায় এগুলো দেখা হয়েছে কিনা আমি জানি না। কিসের ভিত্তিতে তারা এই অস্ত্রের লাইসেন্স পেলেন তা জেলা প্রশাসনই ভালো জানবেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা চাইলেই কাউকে অস্ত্রের লাইসেন্স তুলে দিতে পারি না। পুলিশের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই লাইসেন্স দেয়া হয়। এছাড়া লাইসেন্স প্রদানের আগে অনুষ্ঠিত শুনানিতে কোনো আবেদনের বিপক্ষে অভিযোগ না থাকলে আমরা কোনো লাইসেন্স আটকে রাখতে পারি না। কাউকে দেয়া অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।

কোন্ যৌক্তিকতায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ একুশে পত্রিকার কাছে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে এই ইস্যুতে ঘাটাঘাটি না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ভাই একটু ঘুরে দাঁড়াতে চাই, পজিটিভ কোনো বিষয় নিয়ে লিখুন। কথা দিচ্ছি, আজীবন পাশে থাকবো।

এপডটকম/এটি