আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সৌদির ইতিহাস


খেলাধুলা ডেস্ক : এক বুক আশা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুরুটাও দারুণ করেছিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের শুরুতেই লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় লাতিন আমেরিকার দেশটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধেই যেন নাটকীয়ভাবে ৫ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সৌদি আরব। শেষ পর্যন্ত দুই দলের কেউই আর গোল করতে না পারলে ইতিহাসের পাতায় চলে যায় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৫১ নম্বর দলটি।

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে মাত্র ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে আসা সৌদি আরব দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রীতিমত মাটিতে নামিয়ে এনেছে। দ্বিতীয়ার্ধে সব পরিসংখ্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লুসাইল স্টেডিয়ামে ইতিহাস রচনার দৃশ্যপট তৈরি করে আরবরা।

নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপে খেলতে নেমে ম্যাচের দশম মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় লিওনেল মেসি। তবে প্রথমার্ধে আরো তিনটি গোলের দেখা পেলেও অফসাইডের খাড়ায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের তিনটি গোলই বাতিল হয়ে যায়।

প্রথমার্ধের ২২তম মিনিটে প্রথম গোলের পরেই লাউতারো মার্তিনেস আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। মেসির পাস থেকে গোল করলেও ভিএআরে পরিষ্কার বোঝা যায় বল রিসিভ করার সময়েই মেসি অফসাইডে দাঁড়িয়েছিলেন।

২৮তম মিনিটে ও ৩৪তম মিনিটে আবারও দুইটি গোল অফসাইডে বাতিল করা হয়। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। তবে বিরতির পর মুদ্রার উল্টো পিঠই যেন দেখল আর্জেন্টিনা। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জালে সৌদি আরবের জোড়া গোলে ২-১ গোলে এগিয়ে গেছে এশিয়ার পরাশক্তিরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই যেন অন্যরকম এক ফুটবল উপহার দিল হার্ব রেনার্ডের দল।

ম্যাচের ৪৮ তম মিনিটে আল সেহরির গোলে সমতায় ফিরে সৌদি আরব। উল্লাসে মাতোয়ারা এশিয়ার দলটির সমর্থকদের আনন্দের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন আলদাউসারি। ৫৩তম মিনিটে আরবদের ২-১ গোলে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।

শেষ দিকে একাধিকবার প্রচেস্টা করেও ব্যর্থ হয় আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। সৌদি রক্ষণভাগকে আর একটিবারের জন্যও পরাস্ত করতে পারেনি মেসিরা। ফলে ২-১ গোলের হার দিয়ে দীর্ঘ ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে যায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।