বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আরও বড় দায়িত্বে ডিসি মমিনুর রহমান

প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০২২ | ৩:১৪ অপরাহ্ন

একুশে প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চট্টগ্রামের মানুষের সেবা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মমিনুর রহমান। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দুর্দান্ত কাজের পুরস্কারস্বরূপ এবার আরও বড় দায়িত্ব দেওয়া হলো তাঁকে। রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনবান্ধব এ কর্মকর্তা।

বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে, ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন মমিনুর রহমান।

চট্টগ্রামে ডিসি হয়ে আসা প্রসঙ্গে মো. মমিনুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আমাকে চট্টগ্রামের ডিসি করে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামে তাঁর অনেক স্মৃতি আছে, আছে এই জনপদের মানুষের প্রতি বাড়তি অনুরাগ, ভালোবাসা। চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে তিনি আমাকে বললেন, যাও, চট্টগ্রামের মানুষের সেবা করো, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোকে এগিয়ে নাও।’

তিনি আারও বলেন, ‘চাকরির কারণে যেখানেই গিয়েছি দেশের স্বার্থ, জনস্বার্থকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে চেষ্টা করেছি। যতদিন চাকরিতে আছি, যেখানেই থাকি এই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাব।’

আর এই মনোবৃত্তির উপর দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করেন ডিসি মমিনুর রহমান। হাতে নিয়েছেন বহু চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প-কর্মসূচি। ঐতিহ্যবাহী পরীর পাহাড় সংরক্ষণে এগিয়ে আসা থেকে শুরু করে ‘মিনি সেক্রেটারিয়েট ফর চট্টগ্রাম’ গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। ওই প্রকল্পে ৭৩ দশমিক ৪২ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে ৪৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত দপ্তর।

এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরকে ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিসি মমিনুর রহমান। সেখানে খাস জমিতে সিঙ্গাপুরের আদলে ‘নাইট সাফারি পার্ক’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনার প্রস্তাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এসব মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে কখনো-সখনো মধ্যরাত পর্যন্ত অফিস করছেন ডিসি মমিনুর রহমান। এসব প্রশংসনীয় কাজের কারণে তিনি যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গুড বুকে’ আছেন তিনি; সেটার প্রমাণ মিলেছে গতকাল বুধবার রাতেই, তাঁকে ঢাকার ডিসি হিসেবে পদায়ন করার মধ্য দিয়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রজাতন্ত্রের সত্যিকারের মেধাশ্রয়ী কর্মচারি, সরকার ও রাষ্ট্রের অনুগত, বিশ্বস্ত হিসেবে সুপরিচিতরাই ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। যোগ্য কর্মকর্তা বলেই চট্টগ্রামের পর ঢাকার ডিসি হিসেবেও মমিনুর রহমানকে বেছে নিয়েছে সরকার।

মমিনুর রহমান ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন ইসলামিয়া হাই স্কুলে। সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন গফরগাঁও সরকারি কলেজে। ১৯৯০ সালে প্রথম বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ইংরেজি সাহিত্যে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই মাধ্যমে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে দু-একটি চাকরি করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে ২২ তম বিসিএস (প্রশাসন) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধাতালিকায় প্রথম হয়ে ২০০৩ সালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। কাজ করেন নানা পদে, নানা অঞ্চলে। চাকরি করেছেন বঙ্গবন্ধুর জন্মএলাকা টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও এবং রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের উপজেলায় ইউএনও হিসেবে।

২০১৫ সালে তিনি গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ছিলেন; সেই পদ থেকে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বদলি করা হয়। তিনি ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ৫ম গ্রেডে বেতন পান। এটি তাঁর মেধা, সততা, বিশ্বস্ততারই ফল বলে মনে করেন সহকর্মীরা।

এর আগে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে যোগদান করার আগে মোহাম্মদ মমিনুর রহমান উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব পদে দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৭ সালের ১৪ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পদে বদলি হন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত।

ঢাকার ডিসি হওয়া প্রসঙ্গে মমিনুর রহমান বলেন, সরকার আমাকে যখন যে দায়িত্ব প্রদান করবে, আমি সর্বোচ্চ শ্রম, মেধা দিয়ে তা পালনের চেষ্টা করে যাব।