শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে টানা প্রবল বর্ষণে শালবন এলাকার মোঃ সিরাজ মিয়ার বসতবাড়ির উপর পাহাড় ধসে পড়ার পরপর মঙ্গলবার ৪ জুলাই সকাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম ।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এলিশ শরমিন জানান, প্রবল বর্ষণে শালবন এলাকায় পাহাড় ধসে মোঃ সিরাজ মিয়ার বসতবাড়ির উপর চাপা পরে। তবে দিনের বেলায় হওয়ায় এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার দুপুরে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এসময় হরিনাথ পাড়া গ্যাপ, শালবন আঠার পরিবার এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী চারটি পরিবারকে শালবন আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সরেজমিনে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসন অভিযান অব্যাহত রাখলেও কিন্তু ভ্রাম্যমান টিম শালবন এলাকা ছাড়ার পর আশ্রয় কেন্দ্রে আসা অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
শালবন এলাকার বাসিন্দা মোঃ সাইফুল মিয়া জানান, ঝুঁকি নিয়েও অনেকে বাড়িতে থাকছে। জীবনের সবটুকু সঞ্চয়ে গড়া বসতভিটা ছেড়ে তারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চাচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সমতল স্থানে নিয়ে গিয়ে স্থায়ী ভাবে পুর্নবাসন করাসহ ব্যাবস্থা গ্রহনে প্রশাসনকে আরো কঠোর অবস্থান নেয়ার অনুরোধ জানান শালবন ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আনোয়ার হোসেন ও এলাকাবাসী।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় জেলা সদরে একটিসহ মানিকছড়ি, রামগড় ও মহালছড়িতে পাঁচটি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ির রামগড় ও লক্ষ্মীছড়িতে পাহাড় ধসে শিশুসহ ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রায় সহস্র্রাধিক পরিবার।
