
চট্টগ্রাম : শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা কেবলমাত্র একাডেমি কেন্দ্রিক হওয়া বড় দুর্বলতা। কাজেই আমরা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কাজের দক্ষতার বৃদ্ধির জন্য কারিগরি শিক্ষার উপর জোর দিচ্ছি। শিক্ষার্থী হিসেবে অর্জিত জ্ঞানের কতটুকু কর্মক্ষেত্র, সমাজ ও দেশকে দিতে পারছি সেটাই বড় বিষয়। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেশে হয়েছে তার সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করতে যাচ্ছেন আপনারা। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।’
শনিবার (২৬ নভেম্বর) নগরের টাইগারপাসের নেভি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (পিসিআইইউ) ২য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমবর্তনে ডিগ্রি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, আজ যারা গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন, তারা কেবল শিক্ষা জীবনের সনদ প্রাপ্তির পর্যায় শেষ করেছেন। আসল শিক্ষাজীবন এখন থেকে শুরু হয়েছে। যারা কর্মজীবনে প্রবেশ করেবেন তাদের নতুন এক চ্যালেঞ্জ শুরু হতে যাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে নানা বিষয়ে জ্ঞান থাকা জরুরি। তাই কোন নূন্যতম দক্ষতা না থাকলে কর্মদাতারা আপনাকে বেতন দেওয়ার আগে চিন্তা করবে। কর্ম দিলেও সে বেতন আর বৃদ্ধি হবে না। এই বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। মাত্র এক দশকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের সেরা মেধাবী শিক্ষক, ডিজিটাল ক্লাসরুম আর বিশ্বমানের কারিকুলামের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জনসম্পদে পরিণত হয়েছে। অর্জিত জ্ঞান আর কর্মদক্ষতা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আপনারাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।
এসময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সমাবর্তন বক্তার বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে, চলছে বিপুল কর্মযজ্ঞ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার যাত্রার সূচনা। জ্ঞানের জন্য, স্বীকৃতির জন্য, প্রজ্ঞার জন্য ক্ষুধার্ত হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষুধার্ত হতে থাকুন, তবে তৃপ্ত হবেন না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপায় খোঁজা চালিয়ে যেতে হবে। নতুন দক্ষতা অর্জনে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা যা শিখেছেন তা নয়, কীভাবে শিখতে হয় তা জানার মধ্যেও রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ডক্টর দিল আফরোজা বেগম বলেন, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য বেশ স্মরণীয়। চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই ডিগ্রি প্রদানের দিনটি সব শিক্ষার্থীর কাছে বেশ গুরুত্ব বহন করে। সুতরাং, এই বিশেষ দিনে আপনাদের অঙ্গীকার হোক, দেশকে ভালোবেসে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করে, দেশের জনগণের ভাগ্য বদলাতে উদ্যোগী হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আনোয়ার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাজীবন হলো কর্মজীবনের প্রস্তুতি ক্ষেত্র। আজকের সমাবর্তনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই দীর্ঘ সংগ্রামের পর আপনারা যে ডিগ্রি লাভ করেছেন, তা দেশের প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের জন্য, দেশের গণমানুষের জন্য এই দায়বদ্ধতা পূরণে আপনার কখনো পিছপা হবেন না। করোনা মহামারী পরবর্তী বিশ্বের বৈচিত্র্যময় চ্যালেঞ্জ আপনারা সাহসের সাথে মোকাবিলা করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আসমা ইয়াসমিন এবং ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রাইসুল ইসমাইল আপনের সঞ্চালনায় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তাহমিনা খাতুন এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সাইফুজ্জামান শেখর এমপি, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ব্যবসা প্রশাসন এবং কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর, চেয়ারম্যান ও শিক্ষক।
এর আগে দুপুর ১২ টায় সমাবর্তনে আগত অতিথিদের নিয়ে প্যারেড সহকারে মঞ্চে আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এসময় জাতীয় সঙ্গীত এবং সমাবর্তনের থিম সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জন ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আলোচনা পর্বের পর ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক পুনম মুৎসুদ্দি ও আশরাফুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ফোরামের শিক্ষার্থী এবং ব্যান্ড দল বে অব বেঙ্গল’র পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে, সকাল থেকে ডিগ্রি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সমাবর্তন প্রাঙ্গণ। আড্ডা গল্প, গানের পাশাপাশি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে চলে ফটোসেশানও। সন্তানদের এমন অর্জনের স্বাক্ষী হতে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিভাবকেরাও। সন্তানদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে উপস্থিত অভিভাবকদের অনেকেই হাতড়াচ্ছিলেন নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি।
উল্লেখ্য, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এবারের (২য়) সমাবর্তনে ১০টি বিভাগের ১৩টি প্রোগ্রামের ৪ হাজার ৫০১ জন স্নাতক ও ১ হাজার ১৪৮ জন স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে পাশকৃত ৫ হাজার ৬৪৯ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ১৪ জন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল ও ১৩ জন শিক্ষার্থী ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।
