মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

প্রধানমন্ত্রীর জন্য ফ্লাইওভার সাজানোর কাজে চসিকের ‘ফাঁকিবাজি’

প্রকাশিতঃ ২৯ নভেম্বর ২০২২ | ৮:৩৬ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে এখন সাজ সাজ রব। নতুন করে সেজেছে চট্টগ্রাম। তবে এই সাজসজ্জার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী যে পথ ধরে জনসভায় আসবেন সেই পথগুলোকে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর পতেঙ্গা সৈকত সংলগ্ন লিংক রোড, টোল রোড ও বায়েজিদ লিংক রোড হয়ে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার ধরে জনসভাস্থলে পৌঁছার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সে হিসেবে ওই পথেই সাজসজ্জার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বেশি।

এর অংশ হিসেবে নতুন রঙে রেঙেছে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার। নগরবাসী ধারণা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এই যাত্রায় ফ্লাইওভারের পুরোটাই ধুয়েমুছে পরিস্কার হয়ে যাবে। দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ ত্রুটিগুলোও সেরে তোলা হবে।

কিন্তু বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর চোখ পড়বে যেসব স্থানে, সেই স্থানগুলোতে রঙের প্রলেপ দিয়ে দায়িত্ব সারা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে, ফ্লাইওভারের রক্ষণাবেক্ষণ নয়, প্রধানমন্ত্রীকে সাময়িক খুশি করাই তদারক সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) লক্ষ্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যে পথ অনুসরণ করবে সেই পথের অভ্যন্তরীণ অংশে চটকদার রঙ লাগিয়ে বাইরের ও নিচের অংশে কোনো কাজই করা হয়নি। ফলে ফ্লাইওভারের খসে পড়া পলেস্তারা, ময়লার আস্তরণে ঢাকা পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো যেমন ছিল তেমনই রয়ে গেছে।

আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নির্মাতা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) হলেও তিন বছর ধরে এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে চসিক। সিডিএ ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত খাত ছিল না তাদের। আর সে কারণেই এটি চসিককে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু চসিকের অধীনে আসার পরও ফ্লাইওভারটির ভাগ্য ফেরেনি।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফ্লাইওভারের সাজসজ্জা ও মেরামতে কেন এই অশুভংকরের ফাঁকি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সিভিল ওয়ার্কের কাজে প্রধান প্রকৌশলীকে এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে নগর পরিকল্পনাবিদ ওমরকে নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিদিনই এসব কাজ করা হচ্ছে। বাকি কাজগুলো দ্রুত করে ফেলা হবে।’

চসিক-এর এ ভূমিকায় সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরে প্রায় ১০ লক্ষাধিক অতিরিক্ত জনসমাগম হতে পারে৷ এতে করে নগরের সকল রাস্তার উপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে। দেওয়ানহাট, কদমতলী ফ্লাইওভারের উপরও চাপ বাড়বে৷ অথচ নগরের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ও ফ্লাইওভার বেহাল দশায় রয়েছে। এসব স্থান থেকে সৌন্দর্যবর্ধনের আওতায় বেশ মোটা অংকের রাজস্বও চসিক পাচ্ছে। যদিও সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। রাস্তাঘাট ও ফ্লাইওভার সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা তো চসিকের দায়িত্ব।’