মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

এসএসসি: পটিয়ায় স্কুলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে, কমেছে মাদ্রাসায়

প্রকাশিতঃ ২৯ নভেম্বর ২০২২ | ১০:৩৪ অপরাহ্ন

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম) : পটিয়ায় এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ৮৯.১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। যা গতবারের চেয়ে অনেক বেশি। বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮৯ জন। যা গতবারের চেয়ে বেশি।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমাকান্ত মজুমদার জানান, উপজেলায় এবার মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে পাসের হারও। উপজেলার ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবারের পাসের হার ৮৯.১৯ শতাংশ এবং ২২টি মাদ্রাসায় দাখিলে পাসের হার ৮১.৬২ শতাংশ। আর বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন শিক্ষার্থী।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ৪২টি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫০৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৫ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থী। আর ২২টি মাদ্রাসায় ৮৬০ জন পরীক্ষার্থী এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন; তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৭০২ হন।

এদিকে বরাবরের মতো উপজেলায় আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম অবস্থান দখল করে রেখেছে। বিদ্যালয়টি থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ২০৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২০০ জন পাস করেছেন। তাদের মধ্যে ১২৬ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। পাসের হার ৯৮.০৪ শতাংশ।

২য় অবস্থানে আছে পটিয়ার প্রচীন বিদ্যাপীঠ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ২৬৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ২৬২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন। পাসের হার ৯৭.৪০ শতাংশ।

আর তৃতীয় স্থানে আছে এস এ নূর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ২৯২ জন, পাস করেছেন ২৮৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন। পাসের হার ৯৬.৯২ শতাংশ।

তবে পিঙ্গলা বুধপুরা মফিজুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৬ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৬ জনই পাস করেছেন। শতভাগ পাস করা এ বিদ্যালয়ের একজন পেয়েছেন জিপিএ-৫।

তবে পাসের এ রমরমা সময়েও পটিয়ার ৪২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩টি বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। বিদ্যালয়গুলো হলো, ভাটিখাইন করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জোয়ারা খানখানাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও শাহ আমীর উচ্চ বিদ্যালয়।

অন্যদিকে, উপজেলার ২২টি মাদ্রাসার মধ্যে এবারের মতো ফলাফল বিপর্যয় আর কোন বছর হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আবার ১০টি মাদ্রাসার কোন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।

অপরদিকে, উপজেলার ২২টি মাদ্রাসার মধ্যে প্রথম হয়েছেন ঐতিহ্যবাহী শাহচান্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটির ৮৬ জন শিক্ষার্থী এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছেন ৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ জন, পাসের হার ৮৯.০২ শতাংশ।

২য় স্থানে আছেন সাইদাইর গাউসিয়া তৈয়বিয়া দিলোয়ারা বেগম সুন্নীয়া মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৫২ জন শিক্ষার্থী। পাস করেছেন ৪৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন। পাসের হার ৮৪.৬২ শতাংশ।

তৃতীয় স্থানে আছে চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ দাখিল মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৬৫ জন শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৫১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ জন। পাসের হার ৮২.২৬ শতাংশ।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী বলেন, টানা দুই বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় পরীক্ষা হয়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শর্ট সিলেবাস করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাদ্রাসাগুলোতে পাসের হার কমে যাওয়ার ব্যাপারে শাহচান্দ আউলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোখতার আহমদ বলেন, করোনাকালীন দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কক্ষে ক্লাস করতে পারেননি। এমনকি অনলাইন ক্লাস চালু হওয়ার পরও মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীরা অনলাইন ডিভাইস কিনতে না পারার কারণেও এবারের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাগুলোর ফলাফল তুলনামূলক কম ভালো হয়েছে। আশা করছি, আগামীবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে পড়াশোনা করে মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।