মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

‘ঐক্যের প্রতীক’ হাছান মাহমুদ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়ও এক হতে পারছেন না তারা

প্রকাশিতঃ ৩০ নভেম্বর ২০২২ | ৩:১৯ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : গত ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সেখানে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের।

এরপর শেখ হাসিনার জনসভা সফল করতে গত ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রস্তুতিমূলক মিটিংয়ের উদ্যোগ নেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ওই মিটিংয়ে হাছান মাহমুদ ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সরকার দলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি,  সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, মো. দিদারুল আলম, মাহফুজুর রহমান মিতা, মোস্তাফিজুর রহমান, ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, সংরক্ষিত আসনের এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ ওই মিটিংয়ে দেখা যায়নি সংরক্ষিত আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াশেকা আয়েশা খান ও চন্দনাইশের এমপি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে।

ওই মিটিংয়ে জনসভা সফল করতে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরে বক্তৃতা করেন। এর আগে গত ৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক কমিটির উদ্যোগে প্রথম প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই মিটিংয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সরকার দলীয় হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৬ শীর্ষ নেতা, চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

মিশরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকায় হাছান মাহমুদ সেই মিটিংয়ে উপস্থিত হতে না পারলেও মিটিংটির ব্যাপারে দূর থেকে মনিটরিং করেন বলে জানা যায়।

মূলত যৌথভাবে উল্লিখিত তিন মিটিং, মাঠ পরিদর্শন ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে প্রচার-প্রচারণায় যৌথভাবে পথ চলতে পারেননি চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের বিবদমান গ্রুপগুলো। ফলে যে যার মতো করে বিচ্ছিন্নভাবে জনসভা সফল করার প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির প্রতিদিনই নগরীর ৪৬টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড এবং অধীনস্থ ইউনিট কমিটির নেতাদের সাথে বসছেন, উদ্বুদ্ধকরণ সভা করছেন। এসব সভায় মাঝে মাঝে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সহ সভাপতি নঈম উদ্দিনকে। কিন্তু মহানগরের বাকি নেতাদের কাউকে আ জ ম নাছিরের এসব কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না।

অতি সম্প্রতি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন পলোগ্রাউন্ড পরিদর্শন যান। সেখানে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন উপস্থিত থাকলেও দেখা যায়নি মহিবুল হাসান চৌধুরী বা অন্য নেতাদের।

এদিকে গত সোমবার নিজ ঘরানার নেতাদের নিয়ে পলোগ্রাউন্ড পরিদর্শন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সহ সভাপতি সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী। আ জ ম নাছির বলয়ের কাউকে দেখা যায়নি নওফেলের সেই পরিদর্শনে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে বুধবার নগরের ২২ নং এনায়েত বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দেন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। সেখানে দেখা যায়নি আ জ ম নাছির অনুসারীদের। যদিও ২০ নভেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় নাছির, রেজাউল, নওফেলসহ বিবদমান গ্রুপের সবাই একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আলোচ্য নেতারা যে যার মতো করে পথ চলছেন, প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ নেতাই চান এই গ্রুপিং জিইয়ে থাকুক। ঘরের ভেতর ঘর তৈরি হোক। কেউ কেউ একধাপ এগিয়ে গিয়ে গ্রুপিংকে উসকে দেন। আজ এই নেতাকে ভালো লাগছে না, কাল আরেক নেতাকে সামনে নিয়ে আসেন। কায়েমি স্বার্থবাদিতার অনলে এখানকার আওয়ামী লীগ পুড়লেও অভিভাবকত্বের ছায়া-ছোয়ায় কোনো নেতাকেই দেখা যায় না।

এর মাঝে শুধু ব্যতিক্রম ড. হাছান মাহমুদ। যখনই চট্টগ্রামের স্বার্থ সামনে এসেছে, দল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তির বিষয় উপস্থিত তখনই তিনি ঐক্যের সুর তুলে সবাইকে এক সামিয়ানার নিচে আনার চেষ্টা করেছেন, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সভা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার প্রচার-প্রচারণায় খুব একটা অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে না আনোয়ারার সাংসদ ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে। কেবল সার্কিট হাউজের ওই একটি মিটিংয়েই তিনি ছিলেন, যেটাতে ড. হাছান মাহমুদের আহ্বান ছিলো।