মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

উৎসবে শামিল হতে সাজছে বন্দরনগরীও

প্রকাশিতঃ ৩০ নভেম্বর ২০২২ | ৭:১৯ অপরাহ্ন


এম কে মনির : আগামি ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে নতুন রূপে সাজছে বন্দরনগরী। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী ও উপজেলা।

নগরীর রাস্তাঘাট সংস্কার, সড়কের পাশে থাকা দর্শনীয় স্থান ও বিভিন্ন স্থাপনা রঙিন করা হচ্ছে। বিরামহীনভাবে নগরীকে সাজানোর কাজ করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পথ হিসেবে বন্দর-পতেঙ্গা লিংক রোড, আউটার রিং রোড, টোল রোড ও বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড এবং নগরীর ফ্লাইওভারগুলোকে অন্যরকমভাবে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে।

বায়েজিদ লিংক রোডে ৩ দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ রেখে সংস্কার করা হচ্ছে। সাজিয়ে তোলার অংশ হিসেবে অব্যাহত আছে সড়ক বিভাজক ধোয়া-মোছা ও রঙিনের কাজও।

সরেজমিন বুধবার (৩০ নভেম্বর) সকালে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডে গিয়ে দেখা যায়, ফৌজদার বাইপাস সম্মুখ থেকে শুরু হওয়া সড়কটির ব্রিজে থাকা পূর্বের খানাখন্দ অংশ সংস্কার করা হয়েছে। সড়কটির মাঝখানের হলুদ-কালো রঙের বিভাজকগুলো ধুয়ে-মুছে পরিস্কারের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ১৫ থেকে ২০ জন। যাদের কেউ পানি দিয়ে বিভাজকগুলো ধুয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ বিভাজকের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছেন। কেউবা রং দিয়ে রাঙিয়ে দিচ্ছেন বিভাজক ও ফুটপাতগুলো।

কর্মরত শ্রমিকরা জানান, পুরো সড়কে নতুনত্ব আনা হচ্ছে। দ্রুত সময়ে দুধারে থাকা আশেপাশের আবর্জনা কুড়িয়ে ফেলা হবে। বিভাজকগুলো দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হচ্ছে। এককথায় সড়কে দৃষ্টিকটু দেখায় এমন কোন কিছুই রাখা হবে না।

আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতণের পর সমুদ্র তটের সড়ক পতেঙ্গা লিংক রোড, আউটার রিং রোড, টোল রোড হয়ে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার পর ফ্লাইওভার অতিক্রম করে পলোগ্রাউন্ডের মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে জনসভা উপলক্ষে নগরে উৎসব চলছে। পুরো নগর এখন প্রধানমন্ত্রীকে বরণের অপেক্ষায়। সকাল থেকে রাত অবধি নেতাকর্মীরা পায়ে হেঁটে মিছিল, পথসভা ও ঘোড়ার গাড়িতে করে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে পলোগ্রাউন্ড মাঠে নৌকার আদলে ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৭ ফুট উচ্চতার জনসভার মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। যেখানে ৪০ থেকে ৮০ ফুটের মধ্যে বসতে পারবেন ২শ’ অতিথি।

এছাড়াও মঞ্চের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, ভিআইপি ও নারীদের জন্য করা হয়েছে আলাদা প্যান্ডেল। সমাবেশস্থলে ঢাকা থেকে আনা কলরেডির ১৫০টি মাইক লাগানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আশেপাশে শোনার সুবিধার্থে আরও ৩০০ মাইক লাগানো হবে।

সমাবেশস্থল ও নগরের সর্বত্র শোভা পাচ্ছে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। তৈরি করা হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তাবলয়। আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ জনসভায় আগতদের সুবিধার্থে চসিক সুপেয় পানির ব্যবস্থা করছে। স্থাপন করা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট। প্রস্তুত করা হচ্ছে জরুরি মেডিকেল টিম। জনসভাস্থলের নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হচ্ছে অন্তত ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া নগরের সেবা সংস্থাগুলোকে নিয়ে করা হচ্ছে সমন্বয় সভা।

চসিকের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সড়কগুলোর সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা এ জনসভাকে ঐতিহাসিক জনসভায় রূপ দিতে চাই। এ জন্য দলীয়ভাবে যা যা করা দরকার সব করা হচ্ছে।’