মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

‘আ.লীগ আবার ক্ষমতায় না আসলে উন্নয়ন থমকে যাবে’

প্রকাশিতঃ ৩০ নভেম্বর ২০২২ | ৭:৫৮ অপরাহ্ন


পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় না আসলে উন্নয়ন থমকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক।

আজ বুধবার বিকেল পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ব্যাংক মাঠ প্রাঙ্গণে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের আয়োজনে পটিয়ায় জলাবদ্ধতারোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পাউবো’র ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। বেশিরভাগ কাজই পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের ওপর নির্ভরশীল। পটিয়ার ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকার কাজের দায়িত্ব পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামকে দেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পটিয়ার লাখ লাখ মানুষের সুবিধা হবে। হাজার হাজার হেক্টর কৃষি জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ ৭০ ভাগ দৃশ্যমান হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দৃঢ়তার সাথে কাজ করছি এবং এগিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের মেগা প্রকল্প বাংলাদেশে আর কোথাও হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষের জন্য নানা ভাতা চালু করা হয়েছে। যদি আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসে তাহলে অন্য সরকার এসে এসব ভাতা বন্ধ করে দেবে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগের সাথে থাকতে হবে।

জাহিদ ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুততার সাথে। পটিয়ার এ মেগা প্রকল্পটি যথাসময়ে শেষ হবে। আমরা সকলে মিলে যদি কাজ করি তাহলে দেশের উন্নয়ন হবে। উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ ও সমৃদ্ধশালী দেশের যে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আবারও আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে হবে। না হয় সব উন্নয়ন কাজ থমকে যাবে। দেশ আবারও পিছিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. রমজান আলী প্রামানিকের সভাপতিত্বে ও পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ছালেহ’র সঞ্চালনায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান, মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক শিবেন্দু খাস্তগীর, পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুল মামুন, মেয়র আইয়ুব বাবুল, পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য দেবব্রত দাশ দেবু, ভাইস চেয়ারম্যান তিমির বরণ চৌধুরী, মাজেদা বেগম শিরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বিজন চক্রবর্তী, হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফৌজুল কবির কুমার, পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম, এম এ হাসেম, রনবীর ঘোষ টুটুন, নুরুল হাকিম, শামসুল আলম, মৃদূল নন্দী, হাসান উল্লাহ চৌধুরী, ইমরান উদ্দিন বশির, আরাফাত শাকিল, আবদুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, পটিয়ায় জলাবদ্ধতারোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পটি গত বছরের ৪ এপ্রিল একনেক সভায় পাস হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার কোটি ১৫৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ৪৫টি প্যাকেজের কাজের মধ্যে ১১টি প্যাকেজের কাজের দরপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অনুকূলে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পটিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১২ ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ জলাবদ্ধতা নিরসন, ভাঙনরোধ ও সেচ সুবিধা পাবেন।

প্রকল্পে ২৫ দশমিক ৫১০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এরমধ্যে শিকলবাহা, চাঁদখালী ও বোয়ালখালী খালের ডান তীরে ২২ দশমিক ২০০ কিলোমিটার। চাঁনখালী খালের বামতীরে ৩ দশমিক ৩১০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ১১টি খালের ৩০ দশমিক ২০০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। ২ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার নদী-খালের তীর সংরক্ষণ করা হবে। প্রকল্পে ২৬টি খালে রেগুলেটর বসানো হবে। ২৬টি খালের রেগুলেটর নির্মাণ করার মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা হবে। ৪ দশমিক ১০০ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করা হবে। চাঁনখালী খালের ডান তীরে ২ হাজার ৩৫০ মিটার, বাম তীরে ৮৫০ মিটার এবং বোয়ালখালী খালের ডান তীরে ৯০০ মিটার। এর মাধ্যমে বর্ষায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল রক্ষা করা হবে। প্রকল্পে একটি সেতুও নির্মাণ করা হবে। খানমোহনা এবং ধলঘাট স্টেশনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য চাঁনখালী খালের উপর এই সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫৮ দশমিক ৯২৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে ২৫ দশমিক ৫১০ কিলোমিটার নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। প্রকল্পে বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ, দুই পাশে ওয়ার্কওয়ে নির্মাণ, খালের তীরের যানবাহন চলাচল উপযোগী সড়ক ও ইকো-ট্যুরিজম তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।