কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী, চট্টগ্রামে ১৪ বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন


শরীফুল রুকন : ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তখনই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ হাতে গ্রহণ করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন ঘটতে শুরু করে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে এসে নতুন আরেক ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম আমার দ্বিতীয় বাড়ি। চট্টগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম এবং এ চট্টগ্রামকে পেছনে রেখে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ঘটানো অসম্ভব। বিষয়টি বর্তমান সরকার অনুধাবনে এনেই চট্টগ্রামকে ঘিরে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।’

এরপর শুরু হয় চট্টগ্রাম ও বৃহত্তম চট্টগ্রামকে ঘিরে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা। যা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চালচিত্র। যা থেকে লাভবান হবে পুরো দেশ। অতীতের সরকারগুলো নানাভাবে বন্দরনগরীর উন্নয়ন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা ঘোষণা দিলেও এর বাস্তবায়ন ছিল না। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে চট্টগ্রামকে কার্যকর একটি বাণিজ্যিক নগরী তথা বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তার বেশিরভাগ কাজই বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। বৃহত্তম চট্টগ্রামেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের পূর্তকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় পানির নিচ দিয়ে নির্মাণ করা এটাই প্রথম টানেল। ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে প্রায় ৩৮০ একর জায়গাজুড়ে নির্মাণাধীন এই টানেলের প্রবেশ পথে আছে বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা পাবার শেল্টার। পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা, দুই পাড়ে চলাচলের জন্য আছে দুটি করে মোট ৪টি লেন। আছে চমৎকার ডিজাইনের টোলপ্লাজা ও সার্ভিস এরিয়া বাংলো। টানেল সংযোগ সড়ক থেকে শিকলবাহা ওয়াই জংশন পর্যন্ত ছয় লেনের কাজ শেষের পথে।

চট্টগ্রামে টানেলের অপর প্রান্তে পরিকল্পিতভাবে ভারী শিল্প বিনিয়োগ হচ্ছে, এই টানেলের মাধ্যমে টুইন সিটি গড়ে উঠবে। এই টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম শহরের যানজট ও ভোগান্তি থেকে স্থানীয়দের স্বস্তি মিলবে। কর্ণফুলী নদীর একপাড়ে শিল্প এলাকা আনোয়ারা আর অন্যপাশে পতেঙ্গা। এই টানেলের মাধ্যমে এই দুই পাড়কে একত্রিত করার ফলে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থারই কেবল উন্নয়নই হবে না বরং এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পদক্ষেপে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নতুন পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠছে তাকে যুক্ত করবে মূল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানেলটি খুলে দেওয়ার পর চট্টগ্রামসহ গোটা দেশের অর্থনীতিতেও যোগ হবে এক নতুন মাত্রা।

এছাড়া টানেলকে ঘিরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। টানেলের যান চলাচল শুরু হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী গাড়িগুলোকে আর নগরে ঢুকতে হবে না। চট্টগ্রামের সিটি আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। এছাড়া কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মযজ্ঞ চলছে টানেলকে ঘিরে। টানেলের বহুমুখী সুবিধা নেওয়ার অপেক্ষায় এখন সবাই।

এর আগে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে এই টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পর এই টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১২ সালে সেতু কর্তৃপক্ষ, চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসিএল) ও অভি অরূপ অ্যান্ড পার্টনার্স হংকং লিমিটেড যৌথভাবে টানেল নির্মাণের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করে। এরপর ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে (সরকারের সঙ্গে সরকারের) সমঝোতা স্মারক সই হয়। চীন সরকারই সিসিসিসিএলকে এই টানেল নির্মাণের জন্য মনোনীত করে। এ বিষয়ে ওই বছরের ৩০ জুন সেতু কর্তৃপক্ষ ও সিসিসিসির মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি সই হয়।

বাস্তবায়িত হচ্ছে বে-টার্মিনাল, গতিশীল হবে অর্থনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর পেয়েছে নতুন রূপ, সংযুক্ত হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি, চালু হয়েছে সিটিএমএস, সংযোজিত হয়েছে নতুন নতুন ইয়ার্ড ও সার্ভিস জেটি, বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে বহুগুণ, বেড়েছে রাজস্ব অর্জনের পরিমাণ। নগরের পতেঙ্গা এলাকায় ৪টি জেটি নিয়ে চালু হতে যাচ্ছে পিসিটি। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমার শেষ প্রান্তে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পেছনে সাগরপার থেকে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অদূরে রাসমনিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা এলাকায় বে-টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে বন্দরের। প্রায় ছয় বছর আগে বে টার্মিনাল নির্মাণের কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল প্রকল্পের ডিটেইল ড্রয়িং ডিজাইন করতে বন্দরের সাথে দুটি কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৩১ মে। কুনওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনসালটিং কোম্পানি লিমিটেড এবং ডিয়েনইয়াং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের সাথে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এই চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি বে টার্মিনাল প্রকল্পে বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত একটি টার্মিনালের ডিটেইল ড্রয়িং ডিজাইন, টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরী এবং কন্সট্রাকশন কাজের তত্ত্বাবধান করবে। প্রতিষ্ঠান দুটি প্রথম ধাপে ৬ মাসে ডিটেইল ড্রয়িং ডিজাইন করবে। পরবর্তী আড়াই বছরে কনস্ট্রাকশন কাজের তত্ত্বাবধান করবে। এসব কাজের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যয় হবে ১২৬ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৬ টাকা।

এর আগে গত ৭ এপ্রিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেয় সরকার।২০১৫ সালে সমুদ্র উপকূলে বে টার্মিনাল প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকারি প্রকল্পের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুলাই মাসে বে-টার্মিনাল প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট-পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেন। প্রকল্পের আওতায় মোট ৩টি টার্মিনাল নির্মিত হবে। এর মধ্যে একটি নির্মিত হবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে। বাকি দুটি টর্মিনাল পিপিপি ভিত্তিতে বিদেশি বিনিয়োগে নির্মাণ করা হবে। বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান বাকি টার্মিনাল দুটি নির্মাণ করবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ইতিমধ্যে চীনের চায়না মার্চেন্টস স্পোর্ট হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেড; সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড; সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল, ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস; ভারতের আদানি পোর্ট; দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই গ্রুপ এবং ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট ডেভেলপমেন্ট কো অপারেশন বে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি নিয়ে বর্তমানে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ২০২৫ সাল। এই সময়ের মধ্যেই বে টার্মিনালে জাহাজ ভেড়াতে চায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় একটি ধাপ পার হতে যাচ্ছে। বে টার্মিনাল প্রকল্পের ফোকাল পার্সন চট্টগ্রাম বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল আলম বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে যে টার্মিনালটি নির্মিত হবে; মূলত সেটির ডিটেইল ড্রয়িং ডিজাইনিংয়ে দুই কোরীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তি হয়েছে। এই টার্মিনালে কয়টি জেটি নির্মিত হবে, কয়টি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব, টার্মিনাল নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হবে, টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরীসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মাদ ওমর ফারুক বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে এই বে-টার্মিনাল অপারেশনে যেতে পারবে বলে আশা করছি। এটি হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বন্দর। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর থেকে এই বে-টার্মিনালের দূরত্ব খুব বেশি না। তাই খুব সহজেই ওই সব অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে পোর্টে মালামাল আনা-নেয়া সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমরা বর্তমানে বছরে ৩০ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করি। বে-টার্মিনাল তৈরি হয়ে গেলে সেখানেই আমরা ৪৫ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারব। পরে সেটা আরও বাড়বে। এখান আমরা প্রতিবছর কার্গো এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে সরকারকে ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে থাকি। বে-টার্মিনাল হলে আমরা আরও কয়েক গুণ বেশি রেভিনিউ দিতে পারব।’

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে উৎপাদন শুরু

দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফেনীর সমুদ্র ঘেঁষা পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’। ৩৩ হাজার একরের এই অর্থনৈতিক অঞ্চল লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সেখানে থাকছে পর্যটন, আবাসনসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ করা হচ্ছে।

গত ২০ নভেম্বর মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে চারটি কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদনের ঘোষণা এবং আরও নয়টি শিল্পকারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উৎপাদনে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ভারতের এশিয়ান পেইন্টস, জাপানের নিপ্পন, বাংলাদেশের ম্যাকডোনাল্ড প্রাইভেট লিমিটেড ও টিকে গ্রুপের সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। একই সঙ্গে এই শিল্পনগরের প্রশাসনিক ভবন, ২০ কিলোমিটার শেখ হাসিনা সরণি, ২৩০ কেভিএ গ্রিডলাইন ও সাবস্টেশন এবং একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

৩০ হাজার একরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে (মিরসরাই-সীতাকুণ্ড-ফেনী অর্থনৈতিক অঞ্চল) এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৩ একর জমিতে ১৩৬টি প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের জন্য জায়গা নিয়েছে। এতে ১৭ হাজার ৮৩৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিনিয়োগকারী। এ শিল্পনগরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যানজট কমাবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

চট্টগ্রাম নগরে যান চলাচলে গতি আনতে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটস্থ টানেল রোড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরীর যেকোনো অংশ থেকে মানুষ যাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেন সেজন্যই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বলা হলেও মূলত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শুরু হচ্ছে বহদ্দারহাট থেকে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার থেকে নেমে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ফ্লাইওভার পর্যন্ত আসার পর এখান থেকে বিমানবন্দরে আসা যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল কাঠগড় থেকে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলছে। বারিক বিল্ডিং থেকে আসা চার লেনের ফ্লাইওভার দেওয়ানহাটে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক রোডে নির্মিত ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশ দিয়ে এসে টাইগারপাস পার হয়ে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের রাস্তার সামনে পৌঁছবে। চার লেনের এই ফ্লাইওভার পাহাড়ের দিকে না গিয়ে রাস্তার মাঝখানে থাকবে। পিলারও রাস্তার মাঝখানে হবে। সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছার পর চার লেনের ফ্লাইওভারের দুই লেন ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির আগে রাস্তায় নেমে যাবে। বাকি দুই লেন রাস্তার মাঝখান দিয়ে গিয়ে ওয়াসা মোড়ে বিদ্যমান আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে বিমানবন্দর রোড ধরে আসা গাড়িগুলো সড়ক পথে অল্প পথ গিয়ে প্রয়োজনে আবারো ফ্লাইওভারে উঠবে কিংবা নিচ দিয়ে চলে যাবে। এই পয়েন্টে ফ্লাইওভারে ওঠা গাড়িগুলোর জন্য রাস্তা ডেডিকেটেড করে দেওয়া হবে।

অপরদিকে জিইসি মোড়ে পেনিনসুলা হোটেলের পাশ থেকে একটি র‌্যাম্প বিদ্যমান আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যুক্ত করে দেওয়া হবে। নগরীর নিউ মার্কেট থেকে আসা রাস্তার সঙ্গে টাইগারপাস মোড়ে একটি র‌্যাম্প ফ্লাইওভারে যুক্ত করা হবে। যাতে মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় এবং নিউ মার্কেট হয়ে আসা গাড়িগুলো অনায়াসে ফ্লাইওভারে উঠে যেতে পারে। এছাড়া আমবাগান রাস্তার মাথায় একটি র‌্যাম্প নামানো হবে। এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার করণে মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে চট্টগ্রাম নগর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত হবে; কমবে যানজট ও যাতায়াতের সময়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি একই সঙ্গে সিইপিজেড, কেইপিজেড ও চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ ও দ্রুত করবে। বঙ্গবন্ধু টানেলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে, এতে বন্দরনগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।’

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের আহ্বায়ক ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সিডিএ বর্তমানে যেভাবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে, তাতে অনেক জায়গায় মূল সড়কের সঙ্গে র‌্যাম্প দিয়ে সংযোগ করছে। ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি জনগণের কাজে লাগবে। মানুষের সঙ্গে এটার কনেকশন তৈরি হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরে যানজট কমবে বলে মনে হচ্ছে। তবে নগরীকে পুরোপুরি যানজটমুক্ত করতে এখনই মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া উচিত।’

চট্টগ্রামে মেট্রোরেলের উদ্যোগ

চট্টগ্রাম নগরের জন্য ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর আরবান মেট্রোরেল ট্রানজিট কন্সট্রাকশন অব চিটাগাং মেট্রোপলিটন এরিয়া’ শীর্ষক প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা থেকে ৫৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

গত ২২ নভেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যানজট হ্রাস ও চট্টগ্রাম মহানগরীর জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য পরিবেশবান্ধব মেট্রো সিস্টেম চালু করা হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিটিসিএ, সিডিএ, সিসিসি ও সিএএ’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

একনেক সভায় জানানো হয়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরী চট্টগ্রামে ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান প্রসারের মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দ্রুত নগরায়ন ঘটেছে। ফলে চট্টগ্রামে মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় ক্রমান্বয়ে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রাফিক জ্যাম, দুর্ঘটনা, বায়ুদূষণ ইত্যাদি সমস্যা বেড়ে চলছে।

চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ও পরিবহনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল নিয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এমআরটি লাইন স্থাপনের জন্য একটি প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। চট্টগ্রাম মহানগরীর যানজট পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সংস্থা নানা পদক্ষেপ নিলেও সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে নেওয়া প্রকল্প জনদুর্ভোগে লাঘবে ফলপ্রসূ হয়নি।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রমে ৫৭ কোটি টাকার পরামর্শক সেবা (মাস্টারপ্ল্যান এবং প্রাক সম্ভব্যতা সমীক্ষা), ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার পরামর্শক সেবা (প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন), ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার আউটসোর্সিং, ১ কোটি টাকার কারিগরি পরামর্শক, এক কোটি টাকার পরিবহন পরামর্শক এবং ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার গাড়িভাড়া বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অর্থায়নে নির্মান হচ্ছে দোহাজারী-কক্সবাজার- ঘুনধুন পর্যন্ত রেলপথ। মাতারবাড়ীতে নির্মিত হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর। বাঁশখালীর ও মাতারবাড়িতে হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, আনোয়ারা ও মিরসরাইয়ে দুটি ‘স্পেশাল ইকোনমিক জোন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে, হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সবচেয়ে বেশী উন্নয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে বহদ্দারহাট এম এ মান্নান ফ্লাইওভার, বায়েজিদ-মুরাদপুর-লালখান বাজার আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার, স্টেশন রোড-দেওয়ান হাট ওভারপাস, পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট মেরিন ড্রাইভ আউটার সিটি রিং রোড, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের আধুনিকায়ন, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট বাইপাস রোড অন্যতম।

এছাড়াও অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার খাল খনন, সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্প, চাক্তাই হতে কালুরঘাট পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রিভার ড্রাইভ রিং রোড, ১২টি খালের মুখে শক্তিশালী পাম্পসহ অটোমেটিক টাইডাল রেগুলেটর স্লুইস গেইট নির্মান কাজ অন্যতম। এছাড়াও অনেক পুরানো সংকীর্ণ সড়ক সংস্কার, প্রশস্তকরণ, সম্প্রসারণ ও নতুন সড়ক নির্মাণ কাজ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া হতে চাক্তাই খাল খনন প্রকল্প। ওয়াসার মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে মদুনাঘাট পানি শোধনাগার, রাঙ্গুনিয়ায় শেখ রাসেল পানি শোধনাগার ও শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার অন্যতম। তাছাড়া সমগ্র বৃহত্তর চট্টগ্রামে সড়ক ও সেতু বিভাগ, সওজ, এলজিইআরডি মাধ্যমে বাস্তবায়িত উন্নয়ন বদলে দিচ্ছে পুরো চট্টগ্রামকে।

এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ডাকবাংলো, স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনার, মার্কেট নির্মাণ, জেটি স্থাপন, নারীদের সেলাই-বুটিকস প্রশিক্ষণসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৬ সাল থেকে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করেছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। এ ছাড়াও নিজস্ব অর্থায়নে ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নিজস্ব ভবন, আরও ৫টি নতুন মার্কেট, চেয়ারম্যান বাংলা, পাঁচতলা অফিসার্স কোয়ার্টার ও সাততলা ডরমিটরি ভবন নির্মাণকাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ৪টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন

জাতীয় নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে আজকের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীকে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প উপহার দেবেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান জানান, এদিন প্রধানমন্ত্রী ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন এবং ৪টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের লালদীঘি মাঠে নির্মিত ৬ দফা মঞ্চসহ চট্টগ্রামের ১৮টি স্কুল-কলেজ ভবনের উদ্বোধন করবেন। এছাড়া ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে আধুনিক জাতিসংঘ পার্ক এবং মেরিন একাডেমির আধুনিকীকরণসহ ৪টি প্রকল্পের। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে সীতাকুণ্ড টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, ফটিকছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ এবং রাউজান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া কোতোয়ালি থানাধীন দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসার একটি ৬ তলা ভবন এবং সীতাকুণ্ড টেকনিক্যাল স্কুলে একটি ৫ তলা ভবন ও একটি ৪ তলা প্রশাসনিক ভবন, ওয়ার্কশপ, একতলা সার্ভিস এরিয়া ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে কোতোয়ালী থানাধীন গুল-এ জার বেগম সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ১০ তলা একাডেমিক ভবন, কুসুমকুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন, পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন, মিরসরাই উপজেলার করেরহাট কে. এম. উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন, পাঁচলাইশ থানাধীন বন গবেষণাগার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন, বোয়ালমারী উপজেলাধীন হাজী মোহাম্মদ জানে আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন, সন্দ্বীপের সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন এবং ডবলমুরিং থানাধীন সরকারি সিটি কলেজে ১০ তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হবে।

এছাড়া উদ্বোধন করা হবে পলোগ্রাউন্ড বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবন সম্প্রসারণ এবং খুলশী থানাধীন সিএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবনের সম্প্রসারণ কাজ। উদ্বোধন করা হবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘দুইটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (প্রতিটি ৫০০০ বিএইচপি/ ৭০ টন বোলার্ড পুল) টাগবোট সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্প ও ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্প।

প্রধানমন্ত্রী একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির আধুনিকীকরণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান স্থাপন প্রকল্প, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ অংশে জেটিসহ অন্যান্য স্থাপনাদি নির্মাণ, বাকলিয়ায় শাহ আমানত সেতুসংলগ্ন স্থানে চট্টগ্রামস্থ বিপিসি ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এদিকে রাজনীতিবিদসহ সাধারণ নাগরিক সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, উন্নয়নের বাস্তবায়ন করেছেন এবং করছেন। এর ফলে চট্টগ্রামসহ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়ন ও দিনবদলের নেতৃত্ব দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণ করতে এবং তার মুখে আগামীর বার্তা শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন চট্টগ্রামবাসী। আগামী নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার আগামীকালের জনসভাকে নির্বাচনী জনসভার আমেজে করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। পলোগ্রাউন্ডের মঞ্চটিও তৈরি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘পলোগ্রাউন্ডে মানুষের ঢল নামবে। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসভা হবে এটি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামবাসী কৃতজ্ঞ। তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক মেগাপ্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। চট্টগ্রামে গত ১৪ বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে চট্টগ্রামবাসী অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।’